আদালতে নুসরাত হত্যা মামলার ২১ আসামি

0
17

তারা নিউজ ডেস্ক:

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের পর আগুনে পুড়িয়ে হত্যার মামলার চার্জশিট শুনানির জন্য ২১ আসামিকে আদালতে তোলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাদের প্রিজন ভ্যানে করে আদালতের গারদে আনা হয়। পরে তাদের ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেনের আদালতে তোলা হয়।

নুসরাত হত্যা মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এম. শাহজাহান সাজু বলেন, বুধবার দুপুরে ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের ওসি শাহ আলম। ওই চার্জশিট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে পাঠানো হবে। বাদী যদি চার্জশিটে নারাজি না দেন তাহলে বিচারক পুনঃতদন্তের আদেশ দিতে পারেন। আর নারাজি না দিলে চার্জশিট গ্রহণ করা হতে পারে।

চার্জশিটে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলাকে হত্যার হুকুমদাতা হিসেবে আসামি করা হয়েছে। এই হত্যার ঘটনায় বিভিন্নভাবে যারা জড়িত তাদের অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।

মামলায় যে ২১ জন গ্রেফতার হয়েছেন তারা হলেন- অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলা, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি রুহুল আমিন, কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম, শিক্ষক আবছার উদ্দিন, সহপাঠী আরিফুল ইসলাম, নূর হোসেন, কেফায়েত উল্যাহ জনি, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন, শাহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষের ভাগনি উম্মে সুলতানা পপি, জাবেদ হোসেন, জোবায়ের আহমেদ, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, মো. শামীম, কামরুন নাহার মনি, আবদুর রহিম ওরফে শরিফ, ইফতেখার হোসেন রানা, এমরান হোসেন মামুন, মহিউদ্দিন শাকিল ও হাফেজ আবদুল কাদের ।

এদের মধ্যে চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে নূর হোসেন, আলা উদ্দিন, কেফায়েত উল্যাহ জনি, সাইদুল এবং আরিফুল ইসলামকে বাদ দেওয়া হয়।

গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার আলিম শ্রেণীর ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলার বিরুদ্ধে মামলা হয়। পরে ওইদিনই তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এরপর ৬ এপ্রিল ওই মাদ্রাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয় অধ্যক্ষের অনুসারীরা। টানা পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ১০ এপ্রিল মারা যায় নুসরাত।

আগুন দেওয়ার ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলাসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। এ মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজসহ ১২ জন আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

LEAVE A REPLY