করোনায় পোশাক খাতে বড় ধস বিকল্প পথ বের করতে হবে

0
35

করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রভাব পড়েছে সারা বিশ্বে। বাংলাদেশ বিশ্ববাজার ব্যবস্থার বাইরে নয়। করোনা সংক্রমণের প্রভাব দেশের রপ্তানি আয়েও পড়েছে। রপ্তানি আয়ে বড় ধস নেমেছে। দেশের রপ্তানির প্রধান বাজার ইউরোপ ও আমেরিকা। সেখানে করোনা সংক্রমণ ব্যাপক হওয়ায় চাহিদা কমেছে। তীব্র সংকটে পড়ে ব্যবসা গোটাচ্ছে তাদের বড় ব্র্যান্ডগুলো। অনেক ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠান নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করেছে। এ সংকটে পড়ে চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশের পোশাক খাত। বিদায়ি অর্থবছরে এ খাতের আয় কমেছে প্রায় সাড়ে ৫৩ হাজার কোটি টাকা। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে ৪০ লাখ পোশাক শ্রমিক চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছে।

বিজিএমইএ ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর হিসাবে দেখা যায়, সদ্যঃসমাপ্ত ২০১৯-২০ অর্থবছরে আগের অর্থবছরের চেয়ে ৬৩০ কোটি ডলারের পোশাকপণ্য রপ্তানি কমেছে। স্থানীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৫৩ হাজার কোটি টাকা। অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে পণ্য বহুমুখীকরণ ও উচ্চমূল্যে পণ্য রপ্তানি এবং বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি আমদানি সহজে করার জন্য উদ্যোক্তাদের সুযোগ দিতে হবে। যন্ত্রপাতি আমদানি সহজ করা হলে এবং প্রণোদনা দেওয়া হলে ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত। অন্যদিকে চীনের দখলে থাকা বাজারের ২ শতাংশও যদি আয়ত্তে নেওয়া যায়, তাহলে এ দেশের উদ্যোক্তাদের আর পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না।

বিজিএমইএর এক সাবেক সভাপতি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে পণ্য রপ্তানির চেয়ে চীনে পণ্য রপ্তানির সময় বা লিড টাইম প্রায় অর্ধেক। এ ছাড়া কোট ও স্যুটে বাংলাদেশের পণ্য জাহাজীকরণ করতে খরচ কম। পোশাক খাতের মৌলিক পণ্য জাহাজীকরণ বা এফওবি করে আমাদের আয় ১০ থেকে ১৫ ডলার। অথচ স্যুট-কোট পাঠালে আয় হবে ১০০ থেকে ১৫০ ডলার। সম্প্রতি বাংলাদেশের সঙ্গে চীন বাণিজ্য আরো উদার করেছে; ৯৭ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগানো গেলে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে পোশাক খাত। এ জন্য বাণিজ্যিক-কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে হবে।

আশার কথা হলো, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর সময় পরিস্থিতি যত খারাপ ছিল, এখন তত খারাপ নয়, কিছু অগ্রগতি হয়েছে। যদি বিকল্প ব্যবস্থাগুলো নেওয়া যায় তাহলে বাংলাদেশের সামনে ভালো সময় আসবে। বর্তমান দুরবস্থা থাকবে না। সরকার ও সংশ্লিষ্টদের সে লক্ষ্যেই কাজ করতে হবে।

LEAVE A REPLY