কারা আসছেন কমিটিতে

0
64

তারা নিউজ ডেস্ক:

বগুড়া জেলা বিএনপির নেতা-কর্মীরা নড়েচড়ে বসতে শুরু করেছেন। চলছে এখন লবিং, গ্রুপিং। কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে ঘনঘন যোগাযোগ ও পরামর্শ চলছে। জেলা বিএনপির নতুন কমিটিতে কে থাকছেন আর কে বাদ যাচ্ছেন তা নিয়ে জেলা কমিটির পাশাপাশি অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরাও নতুন কমিটির দিকে তাকিয়ে। তৃণমূল নেতা-কর্মীরা চাইছেন নতুন কমিটি গঠনের পর বিএনপির কেন্দ্রীয় দাবি-দাওয়া নিয়ে জোরদার আন্দোলন যেন বগুড়ায় হয়।

দলের নেতৃত্ব পেতে পদপ্রত্যাশীরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। অনেকেই কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে ঘনঘন যোগাযোগ শুরু করেছেন। দলীয় কোনো কর্মসূচি দেওয়ার আগে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে ঘনঘন পরামর্শ গ্রহণ করছেন। কে হবেন জেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক তা নিয়ে বিএনপি পাড়ায় চলছে চুলচেড়া বিশ্লেষণ। নেতা-কর্মীদের কেউ রাখছেন বর্তমান কমিটির ওপর আস্থা, আবার কেউ থাকছেন নতুন মুখের সন্ধানে। অনেক নেতা-কর্মীই আবার জেলা কমিটিতে শুধু স্থান পেতেই লবিং-গ্রুপিং করে যাচ্ছেন। জানা যায়, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান হিসেবে বগুড়াকে বিএনপির দুর্গ বলা হয়। জেলার সংসদীয় ৭টি আসনেই বিএনপি বেশিরভাগ সময় ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসত। কিন্তু গত এক দশকে বগুড়ায় সেই পরিবেশের বেশ পরিবর্তন হয়েছে। ২০০৮ সালের পর থেকে বগুড়ায় বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে বিপর্যস্ত হয়ে পড়া বিএনপি তেমন শক্তিশালী আর হয়ে ওঠেনি। তখন থেকেই বগুড়ায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা একাধিক মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন। জেলা বিএনপির সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন চাঁনকে মামলার হাজিরা দিতে হয়েছে একাধিকবার। একাধিক মামলা মাথায় নিয়ে দলের সব কর্মসূচিই পালন করেছে বর্তমান বিএনপির নির্বাহী কমিটি। সদ্য সমাপ্ত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুর রাফি পান্না, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর শাহে আলম, জেলা মহিলা বিষয়ক সম্পাদক বিউটি বেগম, যুগ্ম সম্পাদক মাফতুন আহম্মেদ খান রুবেলকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একদিকে দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই অপর দিকে নতুন কমিটি গঠন নিয়ে এখন চলছে জেলা বিএনপির নেতা-কর্মীদের জোর লবিং। বগুড়া জেলা বিএনপির কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে তিন বছরের জন্য ভিপি সাইফুল ইসলামকে সভাপতি ও জয়নাল আবেদীন চাঁনকে সাধারণ সম্পাদক ও মীর শাহে আলমকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়। এরপর ১৭২ সদস্য বিশিষ্ট জেলা বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়। এ কমিটিই এখনো বিদ্যমান রয়েছে। তাদের নেতৃত্বেই দলীয় দাবি-দাওয়া নিয়ে নানা কর্মসূচি পালন করা হয়। এই কমিটি বিরোধী দলের তালিকায় থেকে বেশিরভাগ সময় আন্দোলন নিয়ে মাঠে থেকেছে। হামলা-মামলার শিকার হয়ে কমিটির নেতা-কর্মীরা একাধিকবার জেল খেটেছেন। জামিনে রয়েছেন বেশিরভাগ নেতা-কর্মী। গত ৩১ ডিসেম্বরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলায় বিএনপি ৭টির মধ্যে ২টি আসনে জয়লাভ করে। বাকি সংসদীয় আসনগুলোতে জাপা ও আওয়ামী লীগ জয় পায়। তারপরও জেলা বিএনপির নেতা-কর্মীরা রাজপথ ছাড়েননি। আন্দোলন, কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি দল পুনর্গঠন কর্মসূচির অংশ হিসেবে বগুড়া জেলা বিএনপির নতুন কমিটি গঠনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সে মোতাবেক কেন্দ্রের নির্দেশে গত ২ এপ্রিল শহরের একটি মিলনায়তনে বগুড়া জেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী বরকতুল্লাহ বুলু এবং রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুসহ আরও কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা। সভায় জেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির ১৭২ সদস্যের মধ্যে ১২৪ জন উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ের ৫৪ জন নেতা বক্তব্য দেন। এই বক্তারা বর্তমান কমিটির প্রতি আস্থা রাখার কথা বলেন এবং তৃণমূল নেতা-কর্মীরা নতুন কমিটি গঠনের পর বিএনপির কেন্দ্রীয় দাবি-দাওয়া নিয়ে জোরদার আন্দোলন যেন বগুড়ায় হয় সে বিষয় নিয়েও কেউ কেউ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা ওই সভায় জেলা কমিটির ২৪টি সাংগঠনিক ইউনিটের প্রতি আস্থা ব্যক্ত করে তাদের নেতৃত্বে নতুন কমিটি গঠনের অনুরোধ জানান। অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু জানান, যারা এতদিন নানা প্রকার মামলা-হামলার শিকার হয়ে দলকে ধরে রেখেছে তারাই কমিটিতে স্থান পাবেন।

LEAVE A REPLY