ট্যানারী শিল্পের শ্রমিকদের চাকুরীর নিরাপত্তা, আবাসন, স্বাস্থ্য সেবা সহ পরিবেশ বান্ধব শিল্প নগরী গড়ে তোলার দাবী

0
4

তারা নিউজ ডেস্ক:

পরিবেশ বান্ধব আধুনিক চামড়া শিল্প গড়ে তোলার লক্ষ্যে সাভারের হেমায়েতপুরে চামড়া শিল্প স্থানান্তর করা হলেও সঠিক পরিকল্পনার অভাবে ঈঊঞচ মান অনুযায়ী না হওয়ায় এবং চামড়া শিল্প বিকাশের স্বার্থে সোস্যাল কমপ্লায়েন্সসহ শ্রমিকদের আইনগত অধিকার, আবাসন, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্যান্টিন ইত্যাদি মাস্টার প্ল্যানে অন্তর্ভূক্ত না হওয়ায় আজ এই শিল্প হুমকির সম্মুখিন বলে জানিয়েছেন ট্যানারী ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।
মঙ্গলবার ট্যানারী ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের উদ্যোগে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইউনিয়নের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ লেবার ফাউন্ডেশন (বিএলএফ) এর চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম খান, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ডাঃ ওয়াজেদুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ লেবার ফাউন্ডেশন (বিএলএফ) এর মহাসচিব জেড.এম কামরুল আনাম ও ট্যানারী ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক প্রমুখ।
ইউনিয়নের পক্ষ থেকে শ্রমিক স্বার্থ সংরক্ষণ, শ্রম আইনের বাস্তবায়ন এবং পরিবেশ বান্ধব শিল্প বিকাশে নি¤œ লিখিত দাবী সমূহ বাস্তাবয়নে আহ্বান জাননো হয়।
শ্রম আইন অনুযায়ী প্রত্যেক শ্রমিককে নিয়োগ পত্র, পরিচয় পত্র, সার্ভিস বুক ও হাজিরা কার্ড প্রদান করতে হবে। নিয়োগ পত্র ছাড়া কোন শ্রমিককে চাকুরীতে নিয়োগ করা যাবে না।
ট্যানারী শ্রমিকদের জন্য সরকার ঘোষিত নি¤œতম মজুরী সকল কারখানাতে অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং দ্বি-পক্ষীয় চুক্তির সমস্ত শর্তাবলী অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে।
শ্রম আইন/চুক্তি অনুযায়ী শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, অগ্নি নিরাপত্তা, শোভন কাজ ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত সহ সেফটি কমিটি গঠন করতে হবে এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা উপকরন (চচঊ) সরবরাহ ও এর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
শ্রম আইন অনুযায়ী ৮ ঘন্টার অতিরিক্ত কাজ করানো যাবে না এবং সাপ্তাহিক ছুটি সহ চুক্তি অনুযায়ী শ্রমিকদেরকে সকল ছুটি দিতে হবে।
ইউনিয়নের সদস্য হওয়ার কারণে উদ্দেশ্য মূলক ও নিয়ম বহির্ভুতভাবে কোন শ্রমিককে চাকুরীচ্যুত করা যাবে না এবং যেকোন সময় শ্রমিকদেরকে জোর পূর্বক বিনা বেতনে ও বিনা কারণে ছুটি দেওয়া যাবে না।
ট্যানারী শিল্পে কর্মরত নারী শ্রমিকদেরকে সমকাজে সমান মজুরী এবং শ্রম আইন ও দ্বি-পক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী মাতৃত্বকালীন ছুটি দিতে হবে।
শ্রম আইনের বিধান অনুযায়ী যে সকল কারখানা নিজস্ব ক্যান্টিন করার আওতায় পড়ে, সে সকল কারখানাতে অবিলম্বে শ্রমিকদের জন্য ক্যান্টিন ব্যবস্থা চালু করতে হবে এবং যে সকল কারখানা শ্রম আইনের বিধানমতে নিজস্ব ক্যান্টিন করার আওতায় পড়ে না, সে সকল কারখানার শ্রমিকরা যাতে খাবারের কষ্ট না পায় সেজন্য সাধারণ ক্যান্টিনের ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
শ্রমিকদের জন্য আবাসন, হাসপাতাল ও সন্তানদের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশ্রাম কক্ষ, পাবলিক টয়লেট নিশ্চিত করতে হবে এবং চামড়া শিল্প নগরীর সন্নিকটে শ্রমিকদের আবাসন ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত হাজারীবাগ থেকে হেমায়েতপুর যাতায়াতের জন্য মালিকদের উদ্যোগে পরিবহনের ব্যবস্থা করতে হবে।
বে-আইনিভাবে মধ্যসত্বভোগী ঠিকাদারের মাধ্যমে শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ করে সরাসরি মালিক কর্তৃক কারখানার কাজে শ্রমিক নিয়োগ করতে হবে। শ্রম আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর কর্মরত সকল শ্রমিককে স্থায়ী শ্রমিকের প্রাপ্য সকল সুবিধাদী প্রদান করতে হবে।
অবিলম্বে ঈবহঃৎধষ ঊভভষঁবহঃ ঞৎবধঃসবহঃ চষধহঃ (ঈঊঞচ), ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ডাম্পিং ইয়ার্ড পূর্নাঙ্গভাবে কার্যকর করে রাস্তাঘাটের উন্নয়নসহ চামড়া শিল্প নগরীকে আধুনিক ও পরিবেশ বান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
সাভার চামড়া শিল্প নগরীকে একটি যুগোপযোগী আধুনিক ও পরিবেশ বান্ধব শিল্প নগরী হিসাবে গড়ে তুলতে হবে।
শ্রম আইন ও আই.এল.ও কনভেনশন ৮৭ ও ৯৮ অনুযায়ী ইউনিয়নের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে কোন রকম বাধা সৃষ্টি করা যাবে না এবং সোস্যাল কমপ্লায়েন্সসহ শ্রমিকদের সকল ধরনের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ উল্লেখিত দাবী সমূহ ঈদুল আজহার পূর্বে আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবায়নের দাবী জানান। অন্যথায় ট্যানারী শ্রমিকেরা বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচী দিতে বাধ্য হবে।

LEAVE A REPLY