ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ফেরতদের নিয়ে আতঙ্ক বাড়ছে মির্জাপুরে

0
35

মো. রুহুল আমীন, মির্জাপুর প্রতিনিধি:

অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ এখন দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়ানোর কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এই দুই জেলা থেকে আগত নানা শ্রেণিপেশার লোকজন এখন সারা দেশের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এই আতঙ্ক দেশের অন্যান্য স্থানের চেয়ে খানিকটা বেশি। এই উপজেলার বিপুল সংখ্যক মানুষ ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন শিল্পকারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সাথে জড়িত।

জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা থেকে বিভিন্ন কৌশলে অন্তত অর্ধ শতাধিক  লোক মির্জাপুরে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরেছেন। তাদের বাড়ি উপজেলার পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়নে। এই কারণে অত্যন্ত মির্জাপুর ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও স্থানীয় লোকজন।

মির্জাপুরেই এরইমধ্য একজনের দেহে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের খবর নিশ্চিত করেছে জেলা সিভিল সার্জন অফিস। আক্রান্ত ব্যক্তি সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ থেকে গিয়েছেন।

আক্রান্ত ওই ব্যক্তি নারায়ণগঞ্জের বেসরকারি পলি ক্লিনিকের সিনিয়র ওটি বয়। গত ৫ এপ্রিল জ্বর সর্দি ও কাশি উপস্বর্গ নিয়ে তিনি উপজেলার ভাওড়া ইউনিয়নের বৈরাগী ভাওড়া গ্রামের বাড়িতে আসেন। ৬ এপ্রিল সোমবার প্রশাসন তার নমুনা সংগ্রহ করেন। ৭ এপ্রিল মঙ্গলবার তার করোনা পজেটিভ হওয়ার পর রাতেই তাকে ঢাকার কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পরে ওই বাড়িসহ আশপাশের ৩৫-৪০টি বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করা হয়। করোনাভাইরাসে আক্রান্তের বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মির্জাপুরে আসা ব্যক্তিরা হলেন- উপজেলার গোহাইলবাড়ি গ্রামের আছলাম মিয়ার মেয়ে ছন্দা আক্তার। তিনি ঢাকায় নার্সিং পেশায় কর্মরত। সেখান থেকে ৭/৮ দিন আগে একই উপজেলার পথহারা গ্রামে স্বামীর বাড়িতে আসলে বাড়ির লোকজন তাকে বাড়িতে উঠতে দেয়নি। পরে সে বাবার বাড়িতে রয়েছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া, বানাইল ইউনিয়নের পানিশাইল গ্রামের পদ বারৈয়ের ছেলে দুলাল বারৈ (৩৫) গত ৩ দিন আগে বাড়ি চলে আসে। তিনি নারায়ণগঞ্জে ট্রাক চালান।

গত বুধবার (৮ এপ্রিল) পৌর এলাকার কাঁন্ঠালিয়া গ্রামের সন্তোষ সরকারের ছেলে নারায়ণগঞ্জ থেকে বাড়ি এসেছেন। আলআমিন নামে এক শ্রমিক গত মঙ্গলবার ঢাকা থেকে সদরের পোষ্টকামুরী গ্রামের মৃত. চান মামুদের ছেলে মুঞ্জু মিয়ার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। গত বুধবার রাতে নারায়ণগঞ্জ থেকে সদরের মির্জাপুর সাহাপাড়া গ্রামের অতুল পোদ্দারের ভাতিজা সুদেব পোদ্দার বাড়িতে এসেছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে মির্জাপুর সাহাপাড়া গ্রামের রণদা প্রসাদ সাহার বাড়ির পাশে চন্দন পোদ্দারের ভাই মিহির পোদ্দার নারায়ণগঞ্জ থেকে বাড়িতে এসেছেন। পৌর এলাকার শ্রীহরিপাড়া গ্রামের কমল সূত্রধরের ছেলে অজয় সুত্রধর নরসিংদী থেকে এবং পুষ্পল সূত্রধরের ছেলে পলাশ সুত্রধর নারায়ণগঞ্জ থেকে বৃহস্পতিবার বাড়ি এসেছেন।

এ ছাড়া উপজেলার আনাইতারা ইউনিয়নের চরবিলসা গ্রামের বাসিন্দা লতিফ মিয়ার ছেলে গার্মেন্ট শ্রমিক মোমেন ও আকবর আলীর ছেলে মকবুল হোসেনসহ বিভিন্ন পেশার কয়েকজন নারায়ণগঞ্জ থেকে বাড়িতে চলে এসেছেন। তারা বাড়ি এসে হোম কোয়ারেন্টিনে না থেকে অবাদ চলাফেরা করছে। লোকজন তাদের প্রকাশে চলাফেরা না করার পরামর্শ দিলেও তারা মানছেন না। এতে জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতা ডা. মাকসুদা খানম জানিয়েছেন, সকল প্রকার যানবাহন বন্ধ থাকলেও নানাভাবে নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা থেকে লোকজন আসছেন। ফলে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে মির্জাপুর। তিনি প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় লোকজনকে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন।

এদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুল মালেক বিদেশ ফেরতদের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এসব জেলা থেকে আগতদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা নিশ্চিত করতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। তিনি তাদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতন করছেন।

LEAVE A REPLY