নারীর ক্ষমতায়ন : নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দেশজ গার্মেন্টস ঝুট থেকে তৈরী হচ্ছে ‘এলা প্যাড’

0
306
দেশজ গার্মেন্টস ঝুট থেকে এলা ফাউন্ডেশনের তৈরীকৃত ‘এলা প্যাড’

তারা নিউজ ডেস্ক : সৃষ্টির আদিতেই নারী তাঁর পূরুষ সহকর্মীর সহযোগী। এই সহযোগী নারীরা যখন কর্মক্ষেত্রে মাসিকের মতো চিরাচরিত শারীরিক সমস্যায় পতিত হয়, তখন তাঁর সহযোগী পূরুষ বলেন-আপনি বিশ্রামে থাকেন। কারণ, এখন আপনার মাসিকের সময় (Menstruation Period)। এসময় আপনার ঋতুস্রাব হবে। অধিকন্তু, একজন নারী যখন বয়োঃসন্ধিকালে উপনিত হন, তখন সাধারণতঃ নারীদের মাসিকের ঋতুস্রাব হয়ে থাকে। বাংলাদেশে গ্রামীণ নারী ও শহরে কর্মকর্তা ও কর্মী এবং স্কুল, কলেজ ও বিশ^বিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রীরা সাধারণত মাসিকের সময় পুরাতন নরম কাপড়েরর টুকরো, তুলা কিংবা সূতা জাতীয় চোষক ব্যবহার করেন। যা পুরোপুরি স্বাস্থ্যকর নয়। আর এসব অস্বাস্থ্যকর কাপড়, তুলা কিংবা সূতা জাতীয় নরম চোষক ব্যবহারের ফলে নানা ধরনের স্ত্রীরোগে আক্রান্ত হয় নারীরা। কখনো কখনো স্ত্রীরোগের সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করে। এমনকি ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। অপরিস্কার ও অপরিচ্ছন্ন কাপড় ও চোষক ব্যবহারে যথাযথ বর্জ্য অপসারক না থাকার ফলেফুরান ও ডায়াক্সিনের মতো বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্যাদি আমাদের চারপাশের পরিবেশকে দূষিত করে তুলে। এসব দূষণ থেকে রক্ষা পেতে বাংলাদেশে এলা ফাউন্ডেশনের এক গবেষণাধর্মী উদ্যোগ নিয়েছে। এই উদ্যোগের নাম ‘এলাপ্যাড’। বাংলাদেশে পোশাক শিল্পে নারীকর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ন্যাপকিনসহ এলাপ্যাড নিয়ে এসেছে। এলাপ্যাড যখন একজন নারী মাসিকের ঋতুস্রাবে ব্যবহার করেন ঠিক তখনই প্রায় ৫ হাজার পোশাক শিল্পের নারী কর্মীরা মাসিকের স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি বিরতিহীন কর্মঘণ্টায় তাদের কর্মকান্ড চালিয়ে যাবেন। মূলতঃ নারী কর্মীদের শারীরিক সমস্যায় কোনোভাবেই কর্মঘণ্টা নষ্ট হবে না। এতে তাদের অর্থনৈতিক অবদান পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে সক্রিয় থাকবে। যার ফলে বাংলাদেশে কর্মজীবী নারীদের একদিকে আর্থ-সামাজিক অবস্থান সূদৃঢ় হবে, অন্যদিকে অর্থনৈতিক সক্ষমতার মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন সূদৃঢ় অবস্থানে পৌঁছাবে।
এলাপ্যাড সম্পর্কে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলব্রাইট হামফ্রে ফেলো মামুনুর রহমান বলেন- আমি যখন মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেলোশীপ নিয়ে পড়তে যাই তখন আমার পরিকল্পনায় ছিল বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্পে কর্মরত নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কে গবেষণা করা। কারণ, বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্পে নারী কর্মীরা আর্থিকভাবে স্বচ্ছল না হওয়ায় জীবনযাত্রার মান অত্যন্ত নাজুক। আর এসব নাজুক সমস্যার সমাধান কল্পে গার্মেন্টেসে কর্মরত নারী কর্মীদের চিরাচরিত স্বাস্থ্য সুরক্ষাগত দিক বিশেষতঃ মাসিকের সময় তাদের কাজের বিঘ্নতা ও স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি নিরসনে গবেষণাধর্মী ন্যাপকিনসহ প্যাড তৈরি করা। আর এ পরিকল্পনা থেকেই আমি মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্স শেষে দেশে ফিরে এলা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে এলাপ্যাড নামে সর্বপ্রথম বাণিজ্যিকভাবে প্যাড তৈরির কাজ শুরু করি। এতে দেশের তৈরি গার্মেন্টস শিল্পের অবহেলিত কাঁচামাল ঝুট ব্যবহার করে পরিবেশ-বান্ধব প্রক্রিয়ায় পুনঃবর্জ্য ব্যবহারের মাধ্যমে ১০টি গার্মেন্টসে এলাপ্যাড তৈরি হচ্ছে। একদিকে এলাপ্যাড ব্যবহারেআমাদের গার্মেন্টস শিল্পে কর্মরত নারী কর্মীরা বিরতিহীনভাবে তাদের কর্মঘণ্টা চালিয়ে যাবে, অন্যদিকে ও সুরক্ষিত হবে মাসিকের সময় তাদের স্বাস্থ্যগত দিক। আর এই স্বাস্থ্যগত দিকের সুরক্ষার মাধ্যমেই নারীর ক্ষমতায়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে।
ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের এমআইআইডি বিভাগে মাক্রোবায়লজিক্যাল এনালাইসিস রিপোর্ট মোতাবেক এলাপ্যাডের রেডিয়েশন মাত্রা-১৫.০ কেজিওয়াই তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে পাওয়া গেছে। যা এলাপ্যাড নামক পণ্যের গুণগত মানের স্বীকৃতি প্রদানে গ্রহণযোগ্য। বিশ্বায়নের প্রযুক্তিগত দিকের উৎকর্ষ সাধনের সাথে সাথে নারীদের বহুমাত্রিক রোগ ও সমস্যার স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি নিরসনে এলাপ্যাডের গবেষণাগত মান আন্তর্জাতিক মানের নিশ্চয়তায় সফল বলে জানান এলাপ্যাডের ব্যবহারকারী কর্মজীবী নারী কর্মকর্তা ও কর্মীরা।

LEAVE A REPLY