পলাশে পাওনা টাকা চাওয়ায় হামলা, আহত ৪

0
31

তারা নিউজ ডেস্ক:

নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে হানিফ নামে এক পাওনাদার হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে জালাল উদ্দিন নামে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক সদস্যের বিরুদ্ধে।

হামলাকারীদের চাপাতির আঘাতে গুরুতর জখম হয়ে তিনি বর্তমানে ঢাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার মাথা ও মুখে ৪৪টি সেলাই দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও এ হামলায় আহত হয়েছেন হানিফের পরিবারের আরো তিন সদস্য। ভাঙচুর করা হয়েছে হানিফের ঘরে থাকা লক্ষাধিক টাকার মালপত্র।

মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) সকালে উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের ভিরিন্দা গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া অভিযুক্ত জালাল উদ্দিন ডাঙ্গা ইউনিয়নের কাজৈর গ্রামের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। এছাড়া তিনি ইউনিয়ন পরিষদে প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। আহত হানিফ মিয়া ওই ইউনিয়নের ভিরিন্দা গ্রামের মৃত হজরত আলীর ছেলে।

আহত হানিফ মিয়ার বড় ভাই নবিউল্লাহ বলেন, ইউপি সদস্য জালাল উদ্দিন মেম্বার ইটভাটার ব্যবসা করেন। সেই সুবাদে তিনি এলাকার বিভিন্ন জমির মালিকদের কাছ থেকে ভাটার জন্য মাটি কিনে থাকেন। ৬ মাস আগে ছোট ভাই হানিফ তার ভাটায় ২ লাখ ৭০ হাজার টাকার মাটি বিক্রি করেছিলেন। জালাল মেম্বার মাটি বিক্রির ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও বাকি ২ লাখ টাকা পরিশোধ করেনি। দীর্ঘদিন ধরে টাকা চাইলেও তিনি টাকা না দিয়ে উল্টো ভয়ভীতি দেখাতেন।

গত শনিবার বাড়ির পাশ দিয়ে জালাল মেম্বার রিকশায় করে  যাওয়ার পথে হানিফ পাওনা টাকা চাইলে মেম্বার ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অশ্লীল ভাষায় গালাগালি শুরু করেন। একপর্যায়ে দু’জনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে হানিফ বাড়িতে চলে আসেন।

এর জেরে মঙ্গলবার সকালে জালাল মেম্বার তার ২৫ থেকে ৩০ জন সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনীসহ আমাদের বাড়িতে হামলা করে। হামলাকারীরা ঘরে থাকা ফ্রিজ, টেলিভিশন, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে। এতে বাধা দিতে গেলে তাদের মধ্যে কয়েকজন আমার বৃদ্ধা মা, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ও আমাকে লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকে।

এছাড়া হামলাকারীরা হানিফকেও এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে। এসময় মেম্বার দাঁড়িয়ে থেকে হানিফকে একেবারে মেরে ফেলার হুমুক দেন এবং আমাদের বাড়িঘর আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার কথা বলেন। এলোপাতাড়ি মার খেয়ে হানিফ দৌড়ে ঘর থেকে বাইরে বের হলে তারা আবারো তাকে ধরে বাড়ির পাশের রাস্তায় ফেলে মাথায় চাপাতি দিয়ে মাথায় আঘাত করতে থাকে। একপর্যায়ে আমাদের চিৎকারে আশপাশের মানুষ ছুটে এলে হামলাকারী ও মেম্বার চলে যায়।

আহত হানিফের মেঝ ভাইয়ের স্ত্রী রেহেনা বেগম বলেন, হামলার সময় জালাল মেম্বারের পায়ে ধরে মারধর বন্ধ করতে অনুরোধ করলে তিনি আমাকে হামলাকারীদের দিয়ে ধর্ষণের হুমকিও দেন। এবং আমাকে সজোরে লাথি মেরে ফেলে দেন। এতো বড় ঘটনা ঘটিয়ে তিনি এখন উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন যে, আমরা নাকি মেম্বারের শরীরে আঘাত করেছি। ঘটনার পর থেকে তিনি সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আমাদের পরিবারের লোকজনকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন যেন এ বিষয়ে কোথাও কোনো অভিযোগ না দেই।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য জালাল উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, হানিফ মাটি বিক্রির কিছু টাকা পাওনা রয়েছে। তাকে সময়মত পরিশোধ করবো বলে জানিয়েছি। ঘটনার দিন হানিফ প্রথমে আমাকে আঘাত করে। পরে বিষয়টি আমার এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত গ্রামবাসী হানিফের বাড়িতে হামলা করে।

এসব বিষয়ে ডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান সাবের উল হাই জানান, শুনেছি পাওনাদার হানিফ প্রথমে মেম্বারের শরীরে আঘাত করেছে। তবে মেম্বারের নেতৃত্বে পরের যেই হামলার ঘটনাটি ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক।

পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন মোল্লা জানান, বাড়িঘরে হামলার বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে ইউপি সদস্যের ওপর হামলার বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ হয়েছে। বাড়িঘরে হামলা ও আহতের বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার থেকে অভিযোগ দিলে তাও নেওয়া হবে। এবং উভয় অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY