পাবলিক পরীক্ষায় পর্যুদস্তু শিক্ষাথীরা : আবু মহি মুসা

0
8

তারা নিউজ ডেস্ক:

শিক্ষার পদ্ধতি আরও উন্নত পর্যায়ে নিতে গিয়ে এক সময় হঠাৎ করেই ছাত্র-ছাত্রীদের মেধা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সৃজনশীলতার বিষয়টি চালু করা হয়েছিল। একজন শিক্ষক জানিয়েছেন এ বিষয়টি চালু করা হয়েছির ক্লাশ সিক্স থেকে। এ পদ্ধতি চালু করতে গিয়েছে শিক্ষকরা বিপাকে পড়ে গেছেন। এমনও শোনা গেছে যে শিক্ষকরাই সৃজনশীলতার বিষয়টি বুঝতে পারেন না। বিষয়টি কিন্তু সাধারণ ব্যাপার নয়। এটা হচ্ছে দর্শনের ব্যাপার। দর্শনের গবেষক হিসেবে এ বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করতে গিয়ে দেখলাম, পরিকল্পকারীদের ভুল সিদ্ধান্তের জন্য যে একটি জাতি ধীরে ধীরে রসাতলে যেতে পারে, পরিকল্পনা গ্রহণের পূর্বে এটা নিয়ে তারা কখনো চিন্তা করেছেন বলে মনে হয়নি। দার্শনিক দৃষ্টিকোণ বলা হয়েছে, লুক বিফোর ইউ লিপ। অর্থাৎ লাফ দেয়া আগে দেখে নাও তুমি কোথয়া লাফ দিচ্ছো। সৃজনশীলতার বিষয়টি আগে বুঝতে হবে। যারা এরকম পদ্ধতি চালু করেছেন তারা কি বলতে পারবেন সৃজনশীলতা কি ? সৃজনশীলতা হচ্ছে সৃষ্টিশীলতা। অর্থাৎ নতুন কিছু সৃষ্টি করা। ইংরেজিতে ‘ইনভেন্ট’। যেখানে জ্ঞানের ভূমিকা রয়েছে। সেখানে মুখস্ত করে কোনো কিছু সৃষ্টি করার কোনো অবকাশ নেই। একজন কলামিস্ট একটা সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে তার সমাধান দিলেন। এটা হচ্ছে সৃজনশীলতা। এটা স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের পক্ষে তো দূরের কথা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের পক্ষেও সম্ভব নয়। যারা সরকারী উচ্চ পদে সামাসীন তাদের অনেকের পক্ষেও সম্ভব নয়। সবার পক্ষেই যদি সম্ভব হতো তাহলে প্রত্যেক ছাত্র কবি বা লেখক বা বিজ্ঞানী হয়ে যেত। সৃজনশীলতার বিষয়টি পাঠ্যপুস্তকে থাকে না। যারা বই লেখেন তার লেখা হচ্ছে সৃজনশীন, তারা জ্ঞানী। মেধাবীরা তাদের লেখা পড়েন। সৃজনশীল প্রশ্ন হতে হবে সিলেবাস বাহির্ভূত। বইর মধ্যে যদি এর উত্তর থাকে, সেটা সৃজনশীল হবে না। বইর মধ্যে যদি না থাকে এ সব জ্ঞানের দিক থেকে অপরিপক্ক ছাত্রছাত্রীরা কি পরীক্ষায় পাস করতে পারবে? যেমন প্রশ্ন করা হলো, জ্ঞান এবং মেধা পার্থক্য নির্ণয় করে উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দাও, কে জ্ঞানী এবং কে মেধাবী। এ বিষয়টি দর্শনের কোনো আলোচনায় নেই। যারা শিক্ষানীতির প্রণয়নের সাথে সম্পৃক্ত তারা কি পারবেন এমন একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে? এর উত্তরটাই হচ্ছে সৃজনশীলতা। যারা এ বিষয়টি প্রবর্তন করলেন তারা কি করে এমন একটি উদ্ভট চিন্তা করলেন? যেখানে শিক্ষকরা বুঝতে পারেন না সৃজনশীলতা কাকে বলে, সেখানে ছাত্র ছাত্রীরা কিভাবে উত্তর দেবে?
সৃজনশীল প্রশ্নই যদি চালু করা হয় সেক্ষেত্রে পাঠ্য পুস্তকের বিষয়বস্তু নিয়ে কোনো প্রশ্ন করা যাবে না। পাঠ্য পুস্তক আছে বলেই মুখস্তের একটি প্রশ্ন আছে। আমি বলবো, মুখস্ত করার কোনো বিকল্প নেই। মুখস্ত করার কোনো বিষয় না থাকলে পড়াশোনা না করেই ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হয়ে যেতে পারতেন। এটা কি সম্ভব? যারা বই লিখবেন তাদের লেখা হবে সৃজনশীল। যেমন কবি নজরুল ইসলাম কবিতা লিখেছেন এটাই হচ্ছে সৃজনশীল। এবং সেই লেখাগুলো ছাত্র ছাত্রীরা মুখস্ত করে পরীক্ষ দিয়েছে। যেমন সৃজনশীল প্রশ্ন হতে পারে, ‘যে কোনো বিষয় নিয়ে স্বরচিত একটি কবিতা লেখ?’ পারবে কোনো ছাত্রছাত্রী? ওরাই পরবে যাদের মধ্যে সৃজনশীলতা রয়েছে। তারা সংখ্যায় কতজন?
বাংলা একাডেমি নতুন করে বানান রীতি চালু করেছে। প্রচলিত বানানের অনেক পরিবর্তন করা হয়েছে। যেমন, শ্রেণীর বানান পরিবর্তন করে লেখা হয়েছে ‘শ্রেণি’। যুুগ যুগ ধরে সবাই এভাবে ‘ শ্রেণী’ বানান লিখে আসছে। শ্রেণী বানান লিখতে কারচিহ্ন ‘ঈ’ (ী) টা কি ক্ষতি করেছিল? যুক্ত অক্ষর ‘সান্ত¦না বানানের যদি ‘ব’টা তুলে দেয়া হয় তাতে ভাব প্রকাশের ক্ষতি হবে না। সান্ত¦না, ভাবগত বিষয়টির ওপর ‘ব’ নামক এত ভারি বোঝা না চাপালে চলে। জনপ্রিয় গানের ‘রিমেক’ করে যেমন গানের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে, ঠিক তেমনি বাংলা একাডেমি বানানের এমনই বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে। ‘ই-কার’ ‘ঈ-কার’ পরিবর্তনের কারণে ‘ শ্রেণীকে’ এক একজন এক একভাবে লিখছে। ফলে কোনটাকে শুদ্ধ এবং কোনটা অশুদ্ধ ধরা হবে? যারা ‘ণ’ এ ঈ-কার দিয়ে শ্রেণী লিখবে তাদের বানানটা কি ভুল ধরা হবে ? এতদিন যারা ‘শ্রেণি’কে ‘শ্রেণী’ হিসেবে লিখে আসছেন, বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে সচিব হয়েছেন, তাদের প্রাইমারী স্কুলে পরীক্ষা দিয়ে বানানগুলো শুদ্ধ করে নিয়ে আসতে হবে। বাংলা একাডেমির নতুন বানান রীতি প্রচলনের কারণে তারা অশুদ্ধ বানান শিখে আসছেন।
আমার এক সাংবাদিক বন্ধুর সাথে নেত্রকোনা জেলায় গেলাম। নেত্রকোনা পুলিশ অফিসের প্রায় গা ঘেসে লাইন ধরে অনেকগুলো দেশী পেয়ারার গাছ লাগানো ছিল। কোনো এস.পি. হয়তো এমন উদ্যোগ নিয়েছিলেন গাছগুলো লাগানোর জন্য। এমন মিষ্টি পেয়ারা কখনো খাইনি। এত ফলন হতো যে পেয়ারার ভারে গাছ নুয়ে পড়তো। কোনো এক অফিসার পুলিশ অফিসের সামনে গাড়ী রাখার জন্য পেয়ারা গাছগুলোকে অযৌক্তিকভাবে কেটে পুরো জায়গাটা সিমেন্ট করে দিয়েছেন। গাছগুলোর ধারে কাছেও গাড়ী যাওয়ার কোনো ব্যাপার ছিল না। গাছগুলো রেখেই কিন্তু চত্ত্বরটাকে সিমেন্ট করা যেত। এ সব মেধাবীরা যেখানে গেছে, সে পদে বহাল থেকে , তারা এভাবেই দেশটার সর্বনাশ করেছে। ইতোপূর্বে বহু বার মেধীবী এবং জ্ঞানীদের পার্থক্যের বিষয়টি নিয়ে লেখা হয়েছে। সৃজনশীলতার বিষয় কিন্তু জ্ঞানীদের, প্রতিভাবানদের, মেধাবীদের নয়। বলা হয়েছে, মেধার শূন্য প্লেট নিয়ে মেধাবী এবং মুর্খের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
যাহোক, পরীক্ষা পদ্ধতিতে ‘অবজেকটিভ’ টাইপ প্রশ্নের প্রবর্তন করা হয়েছে। কোন পন্ডিতের মাথা থেকে এমন দুর্গন্ধযুক্ত ঘ্রাণ বের হয়েছে জানি না। আমি আগেই বলেছি মুখস্ত করার কোনো বিকল্প নেই। যদি এ পদ্ধতি রাখা হয়, তাহলে পাঁচ নম্বরের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।
আমাদের সময়ে অর্থাৎ পকিস্তান আমলে একবার ক্লাশ নাইনে বোর্ড ফাইনালের সিস্টেম চালু করতে যাচ্ছিল। ‘নাইনের ফাইনাল চাই না’ ছাত্রছাত্রীদের এই শ্লোগানের মধ্য দিয়ে সেটা বন্ধ করে দেয়া হয়। শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য তার পরিবর্তে আজ প্রবর্তন করা হয়েছে ‘জেএসসি এবং পিএসসি’ অর্থাৎ পঞ্চশ এবং অষ্টম শ্রেণীতে বোর্ড পরীক্ষা। তাতে নাকি শিক্ষার মান বৃদ্ধি পায়। একটি উপন্যাসের সংলাপ ছিল এরকম, ‘ উপন্যাসের নায়ক স্বপ্ন দেখলেন যে, শত্রু সেনারা দেশটাকে দখল করার জন্য ঘিরে রেখেছে। কিছু ক্ষণের মধ্যে ঢুকে পড়বে। এসময় নায়ক একজন দার্শনিক এবং দশজন বিজ্ঞানীকে ডাকলেন। নায়ক দার্শনিককে বললেনা, আমি দেশ রক্ষার পরিকল্পনা চাই। দার্শনিক বললেন, মাই লর্ড এ পরিকল্পনা দেবে বিজ্ঞানীরা। একজন বিজ্ঞানী পরিকল্পনা ( একটি মদের বোতল) দিলেন। দার্শনিক বললেন, ‘ মাইলর্ড এ পরিকল্পনায় সূচনীয়ভাবে পরাজয় বরণ করতে হবে, কারণ এ পরিকল্পনা থেকে মদের গন্ধ আাসে’। কোনো সন্দেহ নেই যে এসব পরীকল্পকারীদের মগজ থেকে মদের গন্ধ বের হচ্ছে। ফলে তারা সঠিক কোনো পরিকল্পনা দিতে পারছে না। যে দেশে বলা হয়, পরীক্ষায় যদি ১২ নম্বব পায়, তাকে গ্রেস দিয়ে ৩৩ করে দিতে হবে। এবং পরবর্তী মুল্যায়নে তাকে জি.পি.এ-ফাইভ দিতে হবে। বলা হয়েছে, সন্তানকে যেমন ¯েœহ আদর দেয় পরীক্ষার খাতাগুলো সেই আদর দিয়ে মূল্যায়ন করতে হবে। সাবেক রাষ্ট্রপতি হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ বলেছেন, যে শূন্য পাওয়ার উপযুক্ত নয়, তাকে জি.পি.এ-ফাইভ দেয়া হয়েছে। পরিকল্পনা থেকে কি পরিমান মদের গন্ধ বের হলে এমন হতে পারে। এ সব অযোগ্য অর্থব লোকগুলো ওই সব জায়গায় বসিয়ে দেশটা কিন্তু সারে সর্বনাশ করে ফেলছে।
আমার মত অনেকেই মনে করেন যে জেএসসি এবং পিএসসি পরীক্ষা বাতিল করা উচিৎ। এটা একটা হয়রাণী ছাড়া আর কিছু নয়। পরীক্ষা আসন্ন হওয়ার সময়ে আমরা অনুভব করতে পেরেছি, আমাদের মানসিক অবস্থাটা কেমন ছিল। কতটা মানসিক চাপ সামলাতে হয়েছে। সমস্ত দেহ মনে হাজার মন ওজনের একটা পাথর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। পঞ্চম শ্রেণির বাচ্চাদের বোর্ড পরীক্ষার সময়ে বাচ্চাদের চেয়ে মা বাবা অভিভাবক বেশি হয়রানীর শিকার হয়ে থাকেন। পরীক্ষা শেষে বাচ্চাদের খুঁজে বের করতে গিয়ে গলদঘর্ম হতে হয়েছে। সে অভিজ্ঞতা আমার ছিল। আমাদের শিক্ষার সর্বনাশ করার জন্য দূর থেকে যদি স্যাটেলাটের কোনো সিগনাল আসে তাহলে বলার কিছু নেই। সত্যিকার অর্থে ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার ক্ষেত্রে যদি উন্নতি চান তবে জেএসসি এবং পিএসসি পরীক্ষা বাতি করে দিন। আমরা তো জেএসসি এবং পিএসসি পরীক্ষায় পাস করে আসিনি। এ পর্যন্ত আমি দর্শনের উপর ৬টি বই লিখেছি, এ সব পরীক্ষা দেইনি বলে কি আমার এ গবেষণা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল? এ সব জেএসসি এবং পিএসসি শিক্ষার মান উন্নত করতে পারবে না।
পত্রিকার এরকম প্রতিবেদন অনেক বারই প্রকাশ করা হয়েছে যে, শিশুদের দেহের ওজনের চেয়ে স্কুলে বহন করে নিয়ে যাওয়া বইর ওজন বেশী। ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রদের পড়ার জন্য ষোলটা বই দেয়া হয়েছে। আর এই গুলো পড়ে ষষ্ঠ শ্রেণি পাস করেই এক লাফে জজ ব্যারিস্টার হয়ে যাবে? কি উদ্ভট চিন্তা! শিশু শ্রেণি থেকেই ছাত্র ছাত্রীদের অংক, বাংলা এবং ইংরাজি বই পড়ানো হয়। এ সব পড়তে গিয়ে অভিভাবকরা লাঠি হাতে নিয়ে বসেন। এমন কি স্কুলের শিক্ষকরা পড়া আদায় করতে গিয়ে এমনভাবে মারধর করেন যে আহত ছাত্রটিকে হাসপতালে ভর্তি করতে হয়। ব্রিটিশ পিয়ডে অফিস আদালতে সব কিছু ইংরাজিতে লিখতে হতো। এমন কি পাকিস্তান প্রিয়ডেও ইংরাজিতে সবকিছু লিখতে হয়েছে বলে ইংরাজী শিখতে হয়েছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ঘোষণা দেয়া হলো যে, সব কিছু বাংলায় লিখতে হবে। তখন থেকে কিন্তু ইংরাজি শিক্ষার গুরুত্ব কমে গেছে। প্রশ্ন হচ্ছে বাংলায় যদি সব কিছু লিখতে হয় তাহলে আমরা ইংরাজি শিখবো কেন? আমরা কার সাথে ইংরাজিতে কথা বলবো? ফ্রান্স, ইটালী, চিন, এ সব দেশের ছাত্রছাত্রীরা তাদের নিজেদের ভাষায় পড়াশোন করে। উচ্চ শিক্ষিত হয়েও তারা ইংরাজিতে কথা বলতে পারে না। তারা বাংলাদেশে এসে ভাষাগত কারণে সমস্যার স্মুখীন হয়েছেন। বাংলাদেশের অধিকাংশ ছাত্র ছাত্রীরা কখনো এমন আশা করে না যে বিদেশে গিয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নেবে। যদি তাই হয় তাহলে এক অর্থে বলবো ইংরাজী শিক্ষার প্রয়োজন নেই। কিন্তু রোগের প্রেস্ক্রিশন অথবা ইংরাজী সাইনবোর্ডটা যাতে পড়তে পারে এতটুকু ইংরাজী শিখলেই চলে। যদি কারো ইংরাজী শিক্ষতে হয় তাকে বিশেষ ব্যবস্থায় শিখতে হবে। যেহেতু চাকুরীতে প্রবেশের সময় সীমা বাড়ানো হয়েছে, সেক্ষেত্রে শিশুদের ভর্তির বয়স হতে হবে ৬ বছর। ৫ বছর থেকে শিুশুদের স্কুলে দিলেও এক বছর বিনোদনের মধ্য দিয়ে পার করে দিতে হবে। এবং চতুর্থ শ্রেণী থেকে তাকে ইংরাজীর প্রথম পাঠ শেখাতে হবে। কোনো অবস্থা পড়ার জন্য শিশুদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে মারধর করা যাবে নাা। অভিযোগ আছে, কিন্টারগার্টেনে শিক্ষক নিজেরা অথবা তাদের বন্ধুরা বই লিখে পাঠ্যসুচীর অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সরকারী প্রাইমারী স্কুলগুলোতে যে নিয়ম এবং পাঠ্যপুস্তক রয়েছে তার বাইরে একটি বইও পাঠ্যসূচীর অন্তরর্ভুক্ত করা যাবে না। শিক্ষার মান কোথায় নেমে গেছে তার একটি বাস্তব উদাহরণ দিতে চাই। একটি চা স্টলে বসে একটি অনার্স থার্ড ইয়ারের ছাত্রের সাথে আলাপ আলোচনার এক পর্যায়ে তাকে বাংলা থেকে ইংরাজী করার জন্য একটি প্রশ্ন করলাম। প্রশ্নটা ছিল, ‘অদ্য রোগীট একটি পা হারিয়ে হাসপাতাল থেকে ফিরলো।’ সে উত্তর দিতে পারেনি। সে পারেনি ‘অদ্য’ শব্দটির বাংলা অর্থ কি তার উত্তর দিতে। সাবেক রাষ্টপতি এরশাদ বলেছেন, যে শূন্য পাওয়া উপযুক্ত নয়, তাকে জি.পি.এ ফাইভ দেয়া হয়। এবং তাকে বলা হয় অত্যন্ত মেধাবী। এই শূন্য পাওয়া মেধাবীরাই কিন্তু দেশ চালাচ্ছে। আর এ কারণে দেশ বোধ করি উন্নয়নের মহা সড়কে গিয়ে দুর্নীতি ডোবায় নেমে গেছে।
লেখক : দার্শনিক/কলামিস্ট।

LEAVE A REPLY