বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম॥ মনিরুজ্জামান মনির ॥

0
71

২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সাল দীর্ঘ ৯ মাস বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ইতিহাসের এক রক্তিম অধ্যায় জন্ম দিয়েছে। ৩০ লাখ শহীদ, ২ লাখ মা বোনের সম্ভ্রম, কোটি কোটি টাকার সম্পদ হারিয়েও ৭ কোটি বাঙালি থেমে থাকেনি। স্বাধীনতার লাল সূর্যটিকে ছিনিয়ে আনার জন্য এদেশের আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত দুভেদ্য প্রাচীর গড়ে তোলেছিলো। বাংলার আনাচে-কানাচে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী মুক্তিযোদ্ধা জনতার প্রতিরোধের মুখে পরস্ত হতে বাধ্য হয়। তাদের মনোবল ভেঙ্গে গিয়ে এদেশীয় রাজাকার, আল-বদর, আলশামস ও শান্তি কমিটির দালালদের সকল ষড়যন্ত্র ছিন্ন করে রেসকোর্স মাঠে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর কমান্ডার লেঃ জেঃ এ এ কে নিয়াজীসহ ৯৬ হাজার পাকিস্তানী সেনা বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনীর যৌথ কমান্ডে প্রধান লেঃ জেঃ জগসিৎ সিং অরুরার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্রজমা দিয়ে আত্মসমর্পনে বাধ্য হয়েছিল। ২৬ মার্চ ১৯৭১ইং সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সাল সকল সমাপ্তির মাধ্যমে জ্বলে উঠে বাংলাদেশের স্বাধীনতার লাল সূর্য।

ওরা গিয়েছিল রাতের আধারে সূর্য আনার জন্যঃ
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে প্রেরনা দিয়েছিল বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষন। পাশাপাশি এই যুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র থেকে ৭১ এর ২৭ মার্চ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঘোষণা (আমি মেজর জিয়া বলছি, আমি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি- প্রথমে নিজের নামে এবং পরে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে) পরিপূরক হিসেবে কাজ করেছে দারুনভাবে।

স্বাধীনতা কারো কাছ থেকে যৌতুক হিসেবে পাওয়া যায় না, রক্তের লাল কনিকার ভিতর লুকিয়ে থাকে স্বাধীনতার লাল সূর্য। এই চির সত্য বাক্যটিকে মনে প্রানে বিশ্বাস করেই বাংলাদেশের দামাল ছেলেরা একে একে মুক্তিযুদ্ধের উদ্দেশ্যে গেরিলা হামলার জন্য পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে ঘর ছাড়তে শুরু করে। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের বানী ছিল- এবারের সংগ্রাম, আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। মূলতঃ রেসকোর্সের ঐ ভাসনের টার্গেট বজায় রেখে বাঙালি যুব সমাজ হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খীষ্টান যোগ দেয় স্বাধীনতার সংগ্রামে। ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী টিকতে না পেরে জাতি সংঘে ধরনা দিয়েছিল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে পাকিস্তানীর আভ্যন্তরীন ব্যাপার বলেও ধামাচাপা দিতে চেয়েছিল চীন সহ কতিপয় বিদেশি রাষ্ট্র। তারা জাতি সংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে নির্লজ্জ দালালি করতেও দ্বিধা করে নাই। অন্যদিকে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দ্রিরা গান্ধী মায়ের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের ১ কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছিলেন। লক্ষাধিক মুক্তিযোদ্ধাকে অস্ত্র সস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে বাংলাদেশে গেরিলা যুদ্ধের জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর ভারত বাংলাদেশকে সর্বাত্মক সমর্থন দিয়ে জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। মুক্তিবাহিনী ও ভারতের মিত্র বাহিনীর যৌথ আক্রমনে পাকিস্তানী সেনারা পিছু হটতে বাধ্য হয়। বাংলাদেশে গ্রামে গঞ্জে, হাটে-বাজারে, জেলায়-উপজেলায় জনগণ তাদের বিরুদ্ধে কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুলে ফলে অবসম্ভাবী বুঝতে পেরে পাকিস্তানী সামরিক জান্তা বিশেষ প্রতিনিধি পাঠায়। মীর জাফর, দেশদ্রোহী চাকমা রাজা ত্রিদিব রায়ের নেতৃত্বে। তাতেও আন্তর্জাতিক জনমতকে বিভ্রান্ত করতে তারা ব্যর্থ হয়। কাপুরুষের মত জাতি সংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাব দিয়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে থামিয়ে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু মহান রাষ্ট্র সোভিয়েত ইউনিয়ন জাতি সংঘে পাকিস্তানের যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাবকে ভেটো দিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে এগিয়ে নিয়ে যায়। তাছাড়া ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালের আগে পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গোপসাগরে সপ্তম নৌ-বহর পাঠিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে বানচার করার ষড়যন্ত্র চালিয়েছিল। কিন্তু সাড়ে সাত কোটি বাঙালির কঠিন মনোবল এবং বিশ্ব জনমতের চাপের মুখে চীন, আমেরিকাসহ পাকিস্তানের বন্ধু রাষ্ট্রগুলো নথি শিকারে বাধ্য হয়। বাংলার সাত কোটি মানুষ ছিনিয়ে আনে স্বাধীনতার লাল সূর্যকে।

মুক্তিযুদ্ধে পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতিদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ?
ঐতিহাসিক ভাবে জানা যায় যে, ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত রাঙামাটিতে ভারতীয় পতাকা উড্ডীন ছিল। অর্থাৎ ব্রিটিশ শাসন মুক্ত হওয়ার পরও পাকিস্তানের অঙ্গীভূত হতে চায়নি তৎকালীন উপজাতীয় নেতৃত্ব। ঠিক তারই বিপরীত চিত্র ঘটেছে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত। অর্থাৎ তৎকালীন চাকমা রাজা ত্রিদিব রায়ের প্রভাব বলয়ভূক্ত উপজাতীয় সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশ পাকিস্তানের প্রীতিতে ব্যস্ত ছিলেন। উপজাতি দেরকে দিয়ে তারাই গঠন করেছিলেন রাজাকার বাহিনী। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর আওয়ামীলীগের সাথে সংসদ নির্বাচন না করে পাকিস্তান প্রেমিক রাজা ত্রিদিব রায় স্বতন্ত্র ভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। একি ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রদ্রোহী শান্তি বাহিনী ও জুম্ম লিভারেশন আর্মির প্রতিষ্ঠাতা তথাকথিত জুম্ম জাতির জনক এম.এন লারমাও স্বাধীনতার পরে স্বতন্ত্র ভাবে নির্বাচনে দাড়িয়ে পাশ করে পার্বত্য চট্টগ্রামকে স্বাধীনতার ছবক প্রদান করেছিলেন। চারুবিকাশ চাকমা এবং এম.এন লারমারা বঙ্গবন্ধুর অবাধ্য হয়ে ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হন এবং দিঘীনালা পানছড়ি সহ সীমান্ত এলাকায় হাজার হাজার বাঙালি হত্যাকান্ডের সূচনা করেন। ফলে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ১৯৭৩ সালে দেশের অখন্ডতা, স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য দেশ প্রেমিক সেনাবাহিনীকে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছিল।

তবে আশার কথা পার্বত্য চট্টগ্রামে কিছু কিছু উপজাতি যুবক এবং বাঙালি দামাল ছেলেরা বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে সফল করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের উজ্জ্বল নক্ষত্র বীর শ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ থেকে শুরু করে খাগড়াছড়ির বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী দোস্ত মোহাম্মদ চৌধুরী, সুলতান আহমেদ কুসুমপুরি, নাজিম উদ্দিন, মোহাম্মদ জাফর, মাহবুব আলম চৌধুরী, সুবেদার টিএম আলী, সুবেদার আবু ইসলাম দোহাজারী, হেমদা রঞ্জন ত্রিপুরা, রনবিক্রম ত্রিপুরা, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, ক্যাপ্টেন আপ্তাবুল কাদের বীর উত্তম, আব্দুল শুক্কুর, এস এম কামাল, সফিকুর রহমান, মোঃ ইফতেখার উদ্দিন, মোঃ ইলিয়াস, আব্দুল বারী, মোঃ মামুন, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ বীর যোদ্ধাদের কথা ইতিহাসে চীর স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তাছাড়া, ১৯৭১ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (রাঙামাটি) এবং বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হোসেন তৌফিক ইমাম (এইচ,টি,ইমাম), এডিসি আব্দুস সামাদ, এসডিও শহীদ আব্দুল আলী প্রমুখ নেতৃবৃন্দের ভূমিকাও স্বাধীনতার ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। কিন্তু চাকমা রাজা ত্রিদিব রায় ইতিহাসের পাতায় চির দিন মীর জাফর ও বিশ্বাস ঘাতক হিসেবে লিপিবদ্ধ হবেন। তবে প্রয়াত মং রাজা মং প্রু সেইন চৌধুরীর ভূমিকা আমরা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করি। মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধে কিংবা সম্মুখ যুদ্ধে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে খাগড়াছড়ি জেলার নাকাপা, কুমারিপাড়া, পাগলাপাড়া, মানিকছড়ি, ডাইনছড়ি, যোগ্যছড়ার গাড়ীটানা, বিলাইছড়ির ফারুয়া, শুকুরছড়ি, রাঙামাটির রামগড়, বড়কল, নানিয়ার চরের বুড়িঘাট, রাঙামাটির পুরাতন রাজবাড়ী, কাপ্তাই লেক, বান্দরবানের থানছি, লামা, আলী কদম প্রভৃতি অনেকগুলো স্পট মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বহন করছে। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তি ও ৭১ সালে রাঙামাটি সরকারি কলেজের ছাত্র-নেতা গৌতম দেওয়ান (সাবেক রাঙামাটি জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ চেয়ারম্যান এবং রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র) মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক আব্দুর রশিদ (সম্পাদক পার্বত্য বার্তা ও সভাপতি রাঙামাটি জেলা যুব ইউনিয়ন), মোঃ ফিরোজ আহমেদ, বিএনপি নেতা অবসর প্রাপ্ত কর্ণেল মনিস দেওয়ান, সাংবাদিক সুনিল কান্তিদের কথা ইতিহাসে চির স্মরণিয় হয়ে থাকবে। পাশাপাশি স্বাধীনতার পরে পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশের মানচিত্রে ধরে রাখার জন্য জোড়ালো ও সাহসি ভূমিকা রাখার জন্য জাতিকে স্মরণে রাখতে হবে যাদেরকে তারা হলেন- প্রবীন সাংবাদিক দৈনিক গিরি দর্পন ও সাপ্তাহিক বন ভূমির সম্পাদক জনাব এ কে এম মোকছেদ আহমেদ, লংগদু উপজেলার চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ সরকার, রাঙামাটি সদর উপজেলার চেয়ারম্যান শান্তিময় দেওয়ান, আসাম বস্তির হেড ম্যান বঙ্কিম দেওয়ান, উড়ি মোহন ত্রিপুরা, চাবাই মগ, সবিনয় চাকমা, কিনামোহন চাকমা, অঞ্জনা চাকমা, রাঙামাটি জেলা মুিক্তযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার শেখ লুৎফর রহমান (এসএলআর), জালাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী আলমগীর, জসিম উদ্দিন কবির, মশিউল আলম হুমায়ুন, মাওলানা শহিদুল ইসলাম, সাংবাদিক মুখলেছুর রহমান প্রমুখ।

বাংলাদেশের মানচিত্রে জুমল্যান্ডের ছুরিকাঘাতঃ
জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ করে বাংলাদেশের মানচিত্রের সাথে পার্বত্য চট্টগ্রামের ৫০৯৩ বর্গমাইল ভূমিকে মুক্তিযোদ্ধারা একত্রিত রাখতে পেরেছিল। কিন্তু সন্তুলারমার নেতৃত্বে তথাকথিত শান্তি বাহিনী বা জুম্ম লিবারেশন আর্মি জুমল্যান্ড নামে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র যুদ্ধ করে ত্রিশ হাজার বাঙালি বার হাজার সৈনিক, বহু পুলিশ, আনসার, বিডিআর হত্যা করে গেরিলা যুদ্ধের নামে নিসংস্ব হত্যাকান্ড চালিয়েছে। জুম্ম জাতি, জুম্মল্যান্ড, জুম্ম কন্ঠ, জুম্ম জাতির জনক ইত্যাদির শব্দের মাধ্যমে পাহাড়ে বাংলাদেশের সংবিধানকে কলংকৃত করা হয়েছে। তার পরও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শান্তি চুক্তির মাধ্যমে পাহাড়ে শান্তি সৃষ্টি জোর চেষ্টা চলে আসছে।

বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়িতে ৮ খুনঃ
উপজেলা নির্বাচন উপলক্ষ্যে গত ১৮ মার্চ রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়িতে ৭ জন এবং ১৯ মার্চ বিলাইছড়িতে উপজেলা আওয়ামীলীগ চেয়ারম্যানকে নিষ্ঠুর ভাবে হত্যা করা হয়েছে। বাঘাইছড়ির সাজেকে ৯ মাইল এলাকায় তিনটি চাঁদের গাড়ীতে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন শেষে ফেরার পথে পাহাড়ী সন্ত্রাসীরা ব্রার্সফায়ার করে প্রিজাইডিং অফিসার, আনসার, ভিডিপি ও গাড়ী চালককে হত্যা করে। এ পর্যন্ত ২০ জন গুরুত্বর আহত অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। এই কি ছিল আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনা? এজন্যইকি আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম?

তিন পার্বত্য জেলায় এখনও জেএসএস, ইউপিডিএফ, পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, হিল ওমেন ফেডারেশন ইত্যাদি সংগঠনগুলো রাষ্ট্রদ্রোহী সশস্ত্র সন্ত্রাস, খুন, মুক্তিপন, চাঁদাবাজি, ডাকাতি আদিপত্যের লড়াই ইত্যাদি অসামাজিক কাজে লিপ্ত আছে। এসব সংগঠন ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস, ২১ ফেব্রুয়ারী মহান ভাষা দিবস, ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস ইত্যাদি জাতিয় গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোতে কোন কর্মসূচী পালন করেন না। শুধু তাই নয় ঐসব দিবসে উপজাতিয় ছাত্র-ছাত্রীরা ঢাকায় জাতিয় কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করলে কিংবা শিল্পকলা একাডেমীতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগদান করলে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের গুন্ডাপান্ডারা তাদের অভিভাবকদেরকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে থাকে। এরাও এক ধরনের নব্য রাজাকার, স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি মাত্র। মহান স্বাধীনতা দিবসে আমরা পার্বত্য চট্টগ্রামকে দেশদ্রোহী, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসী এবং জুম্মল্যান্ড নামে বিছিন্নতাবাদী অপশক্তির বিরুদ্ধে দূর্বার গণপ্রাচীর গড়ে তুলব। এই হউক আমাদের ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসের শপথ।

লেখকঃ মনিরুজ্জামান মনির, রাঙামাটি জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার এবং কেন্দ্রীয় মহাসচিব, পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলন। তাং- ২০/০৩/২০১৯, মোবাইলঃ ০১৭১১৪৫৪৪৭৩

LEAVE A REPLY