বাংলাদেশ বেসরকারি কলেজ অনার্স-মাষ্টার্স শিক্ষক সমিতি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত বেসরকারি কলেজে অনার্স মাষ্টার্স কোর্সে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের এক দফা এমপিও ভুুক্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচীর

0
664

তারা নিউজ ডেস্ক:
আজ ০৩/০৩/২০১৯ ইং তারিখে ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বেসরকারি কলেজে অনার্স মাষ্টার্স কোর্সে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের এক দফা এমপিও ভুুক্তির দাবিতে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়।পবিত্র কোরআন তেলোয়াতের মাধ্যমে সংগঠনের সভাপতি নেকবর হোসাইনের সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক মোঃ ছাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় সকাল ১০.০০ টায় মানববন্ধন কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি বিলাশগুন চৌধুরী, গাজী মোফাজ্জেল হোসেন, নুরুল আবছার সিকদার, মোঃ আক্তারুজ্জামান, পবিত্র কুমার মন্ডল,ডাঃ সোহরাব হোসেন,মোঃ আমিনুর রহমান,দুলাল চন্দ্র কর্মকার, মোঃ রুহুল আমীন, কামরুল হাসান লিপু,আমিনুর হাসান রাসেল,সুকোমল সেন,সঞ্জয় কুমার,মোঃ জিল্লুর রহমান, ইমদাদুল ইসলাম যোয়াদ্দার, জিয়াউর রহমান,মোঃ আনারুল ইসলাম,মোঃ মোস্তফা,মিহির কুমার মন্ডল, মোঃ কামাল হোসেন, মোঃজসিম উদ্দিন, আলী হাসান, মাসুদ হোসেন, মোঃ জাহিদুল ইসলাম,শহিদুল্লাহ কায়ছার, লিটন কুমার দাস,বিপ্লব মন্ডল,আহসান উল্লাহ বিপ্লব,কে.এম ইবনে হাসান রনি,মোঃ লুৎফর রহমান,শাহনাজ পারভীন নীলা,মোঃ সাজ্জাদ হোসেন,শেখ দারুল,আব্দুল কাদের,টিটো, রাশেদুল ইসলাম। বক্তারা বলেন আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত বেসরকারি কলেজে অনার্স মাষ্টার্স কোর্সে নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষক। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে অদ্যবধি মোট ৮৫৭ টি কলেজে ডিগ্রী,অনার্স,মাস্টার্স সহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় ২৮ লক্ষ ছাত্র/ছাত্রী লেখাপড়া করছে। যার মধ্যে শতকরা ৯০ ভাগ গ্রামের দরিদ্র পরিবারের সন্তান। সম্প্রতি প্রতি উপজেলায় একটি করে কলেজ সরকারি করন করায় ২০৩ টি বেসরকারি কলেজে দীর্ঘ ২৭ বছর প্রায় ৩৫০০ নন এমপিও অনার্স মাষ্টার্স শিক্ষক পাঠ দান চলছে। আমাদের এমপিও ভুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের ডিও লেটার সহ ১০ম জাতীয় সংসদের শিক্ষামন্ত্রনালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সুপারিশ শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে প্রেরন করলেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা ও শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের অবহেলায় “বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮”এ আমাদের অন্তর্ভুক্ত না করায় আমরা প্রায় ৩৫০০ জন শিক্ষক এবারও এমপিও বঞ্চিত হয়েছি। ১৯৮২ সালে থেকে শিক্ষামন্ত্রনালয় বিভিন্ন সময়ে “জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা” পরিবর্তন,সংশোধন,সংযোজন করা হয়। সর্বশেষ প্রায় ১ লক্ষ ৩৫ হাজার শিক্ষক কর্মচারীর নতুনপদ সৃষ্টি করে “জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮” প্রনয়ন করা হলেও বেসরকারি কলেজে সৃষ্টিকৃত পদে কর্মরত অনার্স মাস্টার্স কোর্সের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয় নাই। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা জানান মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ছাড়া আমাদের জনবল কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। নতুন জনবল কাঠামোতে আমাদের অন্তর্ভুক্ত না করার কারনে খালি হাতে অনেক শিক্ষকের অবসর গ্রহন করতে হচ্ছে মেধারীরা শিক্ষকতা পেশায় আসলেও বেতন না পেয়ে তারা অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। শতশত সাবেক মেধাবী ছাত্রলীগের নেতা,কমী ও সমর্থকরা শিক্ষকতা পেশায় এসেও বেকারত্বের অভিশাপ বরণ করে নিচ্ছেন। একমাত্র আমরা ব্যতিত আর কেউ এত দীর্ঘ সময় এমপিও বঞ্চিত অবস্থায় নাই। শিক্ষকদের বেতন না দিয়ে উচ্চ শিক্ষার মান উন্নয়ন কি করে সম্ভব? জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের এমপিও ভুক্তির কোন উদ্যোগ গ্রহন না করে প্রতিবছর নতুন নতুন কলেজে অনার্স মাস্টার্স অনুমোদন দিয়ে মেধাবীদের বেকার করার অশুভ নীতি গ্রহণ করেছেন যার ফলে প্রতি বছর হাজার হাজার মেধাবীর জীবনে বেকারত্বের কালো অভিশাপ নেমে আসছে। আমাদের জনবল কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুন কলেজে অনার্স মাষ্টার্স অনুমোদন না দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। “জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮” দ্রুত সংশোধন করে বেসরকারি কলেজে অনার্স মাষ্টার্স কোর্সে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা বিশ্ব মানবতার নেত্রী ও শিক্ষাবান্ধব সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক এমপিও ভুক্তির ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত আমাদের এই কর্মসূচী চলবে এবং সারাদেশে একযোগে বেসরকারি কলেজে কর্মবিরতি চলবে । আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট মানবিক আবেদন জানাচ্ছি আমাদের এমপিও ভুক্তির ঘোষণা দিয়ে দীর্ঘ ২৭ বছরের অভিশপ্ত জীবন থেকে মুক্তি দিন।

LEAVE A REPLY