বাংলা সংগীতের এক উজ্জ্বল প্রতিভার নাম জুলি শারমিলীর জন্ম দিন

0
52

তারা নিউজ ডেস্ক:

বাংলা সংগীতের এক উজ্জ্বল প্রতিভার নাম জুলি শারমিলী। অসংখ্য জনপ্রিয় দেশি-বিদেশি গান গেয়ে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। আজ ৫ জুলাই, ২০১৯। আজ এই প্রথিতযশা কণ্ঠশিল্পীর জন্মদিন। শুভ জন্মদিন জুলি শারমিলী।

যেখানে জন্মদিন নিয়ে মানুষের আগ্রহের কোন শেষ নেই, সেখানে জুলি শারমিলীর এই দিনটি নিয়ে আলাদা ভাবে কোন আগ্রহ নেই।

জুলি শারমিলী বললেন, ‘প্রতিটি কর্মদিবসই আমার জন্মদিন। কাজের মাঝেই এবং কাজের জন্যই আমার জন্ম। আমি একজন আপাদমস্তক কন্ঠশিল্পী। যদিও জুলাই মাস এবং পাঁচ সংখ্যা আমার খুবই প্রিয়। হাজার হলেও আমি মানুষ, নিজেকে ভালবাসি, তাই হয়তো এর বাইরে যাওয়ার সাধ্য আমার নাই।

তবে জন্মদিনে বেশ কিছু ইচ্ছে অনিচ্ছের কথা জানিয়েছেন এই শিল্পী। জুলি শারমিলী বলেন, কর্মহীন দীর্ঘজীবন আমার খুবই অপছন্দ। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কর্মক্ষম থাকতে চাই, সুরের সাথে ন্যায়ের সাথে ভালো কাজের সাথেই থাকতে চাই। আরো ভালো কিছু কাজ করতে চাই। এই আমার বড় ইচ্ছা।

জুলি শারমিলী আরও বলেন,‘সত্যিকার অর্থেই জন্মদিন এর প্রতি আলাদা কোন দুর্বলতা আমার নেই একথা দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে বলতে চাই। আর আমি কোন সেলিব্রিটি বা তারকা নই যে আমার জন্ম তারিখ কাউকে মনে রাখতে হবে। আমি গান গেয়েছি নিজের মনের খোরাক যোগানোর জন্য। তাই দেশের মানুষের কাছে সুশীল সমাজের কাছে, একমাত্র আশীর্বাদ ও দোয়া কামনা করেন।

ছোট বেলার জন্মদিনের স্মৃতির গল্প শোনালেন জুলি শারমিলী। বললেন, ‘জন্মদিন! সবাই একটা নির্দিষ্ট তারিখে জন্ম নেয়। আজকাল সবার বাবা-মা সে তারিখ মনে রাখে। জন্মদিনে কেক কেটে মোম জ্বালিয়ে স্বজনদের দাওয়াত করে উৎসব পালনের রেয়াজ আমাদের পরিবারে ছিল। যখন কিশোরী হয়ে উঠছিলাম তখন প্রতি বছরই বান্ধবীদের ডেকে মা অনেক কিছু নিজ হাতে রান্না করে আপ্যায়ন করতেন। আমার আম্মা প্রখ্যাত সাংবাদিক সামিনা সিদ্দিকী আমাকে বলতেন আগে শিক্ষাজীবন শেষ করে পরে গানবাজনার দিকে মনোনিবেশ করো। অনার্স পড়ার সময়ই আমার বিয়ে হয়ে গেলো। স্বামী একজন ব্যবসায়ী হলেও সংগীতের প্রতি প্রচুর আগ্রহ তার, যার ফলে সংগীতের ক্ষেত্রে আমাকে অনেক সহায়তা প্রদান করেন। ছেলে শান তওসিফ আলম ৯ম শ্রেণীর ছাত্র এবং মেয়ে মেহজাবিন নাজ শায়না কেজি শ্রেণীতে পড়ছে। গানের প্রতি বাচ্চাদেরও আগ্রহ আছে বলে জানান জুলি শারমিলী।

সম্প্রতি মাইটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার অনুষ্ঠান করেছেন, যা দেশে-বিদেশে অনেক সুনাম কুড়িয়েছেন। বিশেষ করে হিন্দি-উর্দু গজল শ্রোতা-দর্শকদের ব্যপকভাবে সারা ফেলেছে, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমাদ্রিত হয়েছে। মান্না দের গাওয়া লাগা চুনরি মেইন দাগ গানটি দেশের মধ্যে তো বটেই ভারতবর্ষের শিল্পীদের মধ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই মন্তব্য করেছেন।

অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দিয়ে তিনি বাংলা গানের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছেন। চলচ্চিত্র, আধুনিক গান, নজরুল সঙ্গীত, রবীন্দ্র সঙ্গীত, হিন্দি-উর্দু গজল, ঠুমরি সহ বিভিন্ন ভাষায় ও বিভিন্ন ধরনের গানে জুলি শারমিলী সমান পারদর্শী। তিনি ৩০ বছর ধরে সংগীতাঙ্গনে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি এ পর্যন্ত চলচ্চিত্রের পাশাপাশি নজরুল ইসলাম, শেখ সাদি খান, লাকি আখন্দ, দেবেন্দ্রনাথ চট্টোপধ্যায়, লোকমান হাকিম, আতিকুর রহমান, সুজেয় শ্যাম জালাল আহমেদ, সজল দাশের সুরে মৌলিক গান গেয়েছেন। তাঁর এ পর্যন্ত একক এবং দ্বৈত মিলে মোট ১২টি গানের এলবাম বের হয়েছে।

জুলি শারমিলী বলেন, নিয়াজ মোহাম্মাদ চৌধুরী, রাম কানাই দাশ, সুজিত মুস্তফা, ফেরদৌস আরা, কলিম শরাফি, অনিল কুমার সাহা, ওয়াহিদুল হক, সঞ্জিব দে, সত্তেন্দ্রনাথ হালদার, আজাদ রহমান, মধুমোহন দাশ।

ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে জন্মদিনে দোয়া চেয়ে জুলি শারমিলী বলেছেন, মানুষ যেভাবে আমাকে ভালোবাসে এই ভালোবাসা আজীবন বজায় থাকুক। এটাই আমি চাই। সবার কাছে দোয়া চাই। সবার ভালোবাসা নিয়ে আরও ভালো গান উপহার দিতে চাই।’

 

LEAVE A REPLY