টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সাথে সমন্বয় করে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে পুরোপুরি সম্পৃক্ত করার সুপারিশ জানাল সুপ্র

0
234

তারা নিউজ ডেক্স : “বাদ যাবে না কেউ ঃ চাই সবার জন্য সমতা” এই লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ’র তৃতীয় বর্ষ পুর্তি উপলক্ষ্যে আজ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, সোমবার, সকাল ১১.০০ মিনিটে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে নাগরিক সংগঠনের জোট সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান-সুপ্র। সুপ্র’র ভাইস চেয়ারপর্সন জনাব মঞ্জু রাণী প্রামাণিকের সভাপতিত্বে এবং সুপ্র’র জাতীয় পরিষদ সদস্য জনাব আহমেদ স্বপন মাহমুদ এর সঞ্চালনায় সম্মেলনে ধারণাপত্র পাঠ করেন সুপ্র’র সাধারণ সম্পাদক জনাব এম এ কাদের। সম্মেলনে বক্তারা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সাথে সমন্বয় করে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে পুরোপুরি সম্পৃক্ত করার সুপারিশ জানায়।

সুপ্র মনে করে, সারা বিশ্বের মানুষের শান্তি, সমৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে ‘‘২০৩০ এজেন্ডা” এমন একটি কর্ম-পরিকল্পনা যা বিশ্ব শান্তি জোরদার করবে এবং ক্ষুধা ও দারিদ্রসহ সকল প্রকার বৈষম্যের অবসান ঘটাবে। অতি দারিদ্র্যসহ সব ধরণের দারিদ্র্্েযর অবসান ঘটানোই এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, আর এটাই হলো টেকসই উন্নয়নের পূর্বশর্ত। আগামী প্রায় দেড় দশক বিশ্বের সকল দেশ এই লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে কাজ করবে যার মধ্য দিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে জনগণের সকল ধরণের দারিদ্র্যের অবসান ঘটানো সম্ভব হবে; সকল ধরণের বৈষম্যের অবসান ও অসমতা হ্রাসের গুরু দায়িত্ব পালন করাসহ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলার কাজ এগিয়ে নেয়া যাবে। আর এসব কর্মকান্ডের মূলমন্ত্র হবে ‘‘কাউকে পশ্চাতে রেখে নয়” নীতি অনুসরণ।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন যে, বাংলাদেশ বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রান্তসীমায় অবস্থান করেও বর্তমানে উল্ল্যেখযোগ্য অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে অগ্রসরমান একটি দেশ। সাড়ে ১৬ কোটি মানুষের ঘনবসতিপূর্ণ দেশের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী ৭.২৮ শতাংশের মধ্যে অবস্থান করছে। দারিদ্র্য ও ক্ষুধা বিরোধী সংগ্রামে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে বিগত দশ বছরে। এই সময়ে দারিদ্র্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসলেও সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, এখনো ২৩.৫ শতাংশ (সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, অক্টোবর ২০১৬) মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে। একই তথ্যসূত্রে দেখা গেছে, বর্তমানে দেশে ৩৭.৬ মিলিয়ন মানুষ দরিদ্রসীমার নিচে বসবাস করছে।

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে বক্তারা বলেন যে, এজেন্ডা ২০৩০-এর সুষ্ঠু বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অগ্রাধিকার নিরূপণ, নীতি প্রণয়ন, আর্থিক সংস্থান, বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা ইত্যাদি বিষয়গুলোতে সরকারের ভূমিকাই মুখ্য। বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার মধ্যে সমন্বয় সাধন এবং উন্নয়নের সুষ্ঠু বন্টন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও সরকারের ভূমিকাই প্রধান। অপরদিকে, এসডিজি বাস্তবায়নের অগ্রগতি অনুসরণ, পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনার জন্য সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ যেমন, সরকার, ব্যক্তিখাতে উদ্যোক্তা, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি, গবেষক ও উন্নয়নকর্মীসহ সবার অংশগ্রহণ জরুরী। এইভাবেই অগ্রসর হলে আমরা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ অর্জনের সুফল দেখতো পাবো।

সংলাপে আরো উপস্থিত ছিলেন সুপ্র’র নির্বাহী বোর্ড সদস্য জনাব এম এ ছালাম, বাঁচতে শিখ নারীর জনাব ফিরোজা বেগম সহ বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক্স ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ ও সুপ্র সচিবালয়ের কর্মীবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে সুপ্র’র দাবিগুলো নিম্নরূপ তুলে ধরা হলো-
*সরকার ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এবং প্রাইভেট সেক্টরকে নিয়ে অতি দ্রুত একটি পার্টনারশীপ গড়ে তুলতে হবে;
*সমাজের একেবারেই সুবিধা বঞ্চিত মানুষ যেমন, দলিত, হরিজন, আদিবাসী ও হত দরিদ্র্য মানুষদেরকে বিবেচনায় নিয়ে একটি অন্তভূক্তিমূলক কর্মপরিকল্পনা তৈরী করতে হবে;
*এসডিজি বাস্তবায়নে অর্থের সংস্থান পর্যাপ্ত করার জন্য প্রাইভেট সেক্টরকে উৎসাহিত করা একান্ত জরুরী;
*প্রত্যেকটি জেলা প্রসাশকের অধীনে এসজিডি মনিটরিং ডেস্ক তৈরী করতে হবে;
*প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূল¯্রােতধারায় নিয়ে আসার জন্য অভীষ্ট লক্ষ্যমাত্রার নিরীখে কর্মর্সূচি হাতে নিতে হবে;
*প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয়ে এসডিজি ‘ফোকাল পয়েন্ট’ গুলোতে বিষয়ভিত্তিক সংশ্লিষ্ট বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও প্রাইভেট সেক্টরকে সাথে রাখতে হবে;
*টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সাথে সমন্বয় করে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে পুরোপুরি সম্পৃক্ত করতে হবে।

LEAVE A REPLY