বিশ্বে সবচেয়ে বড় হুমকির নাম নভেল করোনাভাইরাস

0
33

তারা নিউজ ডেস্ক:

এই মুহৃর্তে সারা বিশ্বে সবচেয়ে বড় হুমকির নাম নভেল করোনাভাইরাস বা কভিড-১৯। এরই মধ্যে এক লাখের বেশি মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে তিন হাজার ছয় শর বেশি মানুষের। এরই মধ্যে ১০৬টি দেশ থেকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর উপস্থিতির কথা জানানো হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন দেশ ও মানুষের আক্রান্ত হওয়ার খবর আসছে। চীনে এই ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলেও এখন চীনের বাইরের দেশগুলোতেই আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে বেশি। দেশ-বিদেশের অনেক বিশেষজ্ঞই বলেছিলেন, বাংলাদেশও এই ঝুঁকির বাইরে নয়। অবশেষে তা-ই সত্য হলো। রবিবার বিকেলে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশেও কভিড ১৯-এ আক্রান্ত তিনজন রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ এই ভাইরাসে আক্রান্ত শতাধিক দেশের তালিকায় বাংলাদেশও অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল। এই তিনজনের মধ্যে দুজন সম্প্রতি ইতালি থেকে দেশে এসেছিল। তাদের একজনের মাধ্যমে এক নারী আক্রান্ত হয়েছে। তাদের চিকিৎসা চলছে এবং পরিবারের আরো তিনজনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এই রোগীদের ঘনিষ্ঠ সংসর্গে কারা কারা এসেছিল তাদেরও খোঁজা হচ্ছে। আমরা আশা করি, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত সবার আন্তরিক চেষ্টায় এবং জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতায় আমরা এই মহাবিপদ মোকাবেলায় সক্ষম হব।

কভিড-১৯ বিশ্ব অর্থনীতিকেও এক বড় চ্যালেঞ্জের মুখে এনে দাঁড় করিয়েছে।  বিশ্ব পুঁজিবাজারের প্রধান প্রধান কেন্দ্রে রীতিমতো ধস নেমেছে। বাংলাদেশের পুঁজিবাজারেও তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বলছে, ভাইরাসের কারণে বাংলাদেশ ৩০২ কোটি ডলারের বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে পারে। মানুষের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবেলায়ও আমাদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। এই ভাইরাসের বিস্তৃতি রোধে এবং আক্রান্তদের চিকিৎসায় পর্যাপ্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। জনগণকেও সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। করোনাভাইরাস মোকাবেলায় ব্যক্তিগত পর্যায়ে করণীয় সম্পর্কে চিকিৎসাসংশ্লিষ্টরা প্রতিনিয়ত পরামর্শ দিয়ে চলেছেন। আমাদের সেসব পরামর্শ মেনে চলতে হবে। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, যথাসম্ভব জনসমাগম বা জনবহুল স্থান এড়িয়ে চলা। অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে না যাওয়া। মুজিববর্ষ উপলক্ষে আগামী ১৭ মার্চ থেকে ব্যাপক জনমানুষের উপস্থিতিতে কয়েকটি বড় আয়োজন ছিল। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আয়োজিত সভায় সেসব আয়োজন পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। অনেক দেশে ধর্মীয় প্রার্থনা সভা বাতিল করা হয়েছে। বেশি আক্রান্ত দেশগুলোতে স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত বন্ধ রাখা হয়েছে। চীনের ছয়টি প্রদেশের মানুষ এক রকম অবরুদ্ধ জীবনযাপন করেছেন। বর্তমানে ইতালিতেও দেড় কোটির বেশি মানুষ অবরুদ্ধ জীবনযাপন করছেন। প্রয়োজনে আমাদেরও তেমন করতে হতে পারে, সে জন্য মানসিক প্রস্তুতি রাখতে হবে। আমরা চাই, তেমন পরিস্থিতি আসার আগেই যেন আমরা এই ভাইরাস মোকাবেলা করতে সক্ষম হই।

সম্পাদক: খন্দকার মাসুদ-উজ-জামান, তারা নিউজ বিডি.কম টিএনবি।

LEAVE A REPLY