ভিয়েতনামে চুক্তি না হলেও দ্বিতীয়বার সম্মেলন ব্যর্থ নয়

0
19

তারা নিউজ ডেস্ক: দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধোত্তর বিশেষত ১৯৪৫ সাল পরবর্তী সময়ে কোরীয় উপদ্বীপে ¯œায়ুযুদ্ধের অবসান কেন্দ্রীক পারস্পারিক আলোচনা সমালোচনা চলছে তো চলছেই…। এমনকি বর্তমান উত্তর কোরীয় প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের পিতামহ কিম জং ইল সিনিয়রও ঐসব শান্তি ও সম্প্রীতি আলোচনায় যুক্ত ছিলেন। যার ফলে বংশ পরম্পরায় কোরীয় উপদ্বীপ অঞ্চলে শান্তি ও সম্প্রীতির দ্বি-পাক্ষিক, ত্রি-পাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক ইতিবাচক আলোচনা-সমালোচনামূলক কর্মকান্ড এগিয়ে যাচ্ছে। বাস্তবতা হলো আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। প্রথমত-চলমান বিশ^ব্যবস্থায় আমাদেরকে রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিশ^ায়ন সীমাবদ্ধতার জালে আবদ্ধ হতে বাধ্য করে। দ্বিতীয়ত: কোন একটি অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক কর্মকান্ড শুধুমাত্র ঐ অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ নয়, পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলেও সম্প্রসারিত ও বিস্তৃত। এমতাবস্থায় ঐসব সম্প্রসারিত ও বিস্তৃত অঞ্চল ভিত্তিক বিরাজমান পরিস্থিতিতে সমঝোতা কিংবা চুক্তি করতে অনেকটা নিরুৎসাহিত করে। তৃতীয়ত: কোনো একটি অঞ্চল ভূ-রাজনৈতিক কর্মকান্ডকে পুরোপুরি সমর্থন নাও করতে পারে। আর ঐ সমর্থন না করাতেই দ্বি-পাক্ষিক, ত্রি-পাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক চুক্তি করা সম্ভব হয়ে উঠে না।
আমাদের বাংলা ভাষায় প্রবাদে আছেÑ ‘সকাল দেখলেই বোঝা যায় দিনটি কেমন যাবে’? ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১৯ হোটের মেট্রোপলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনান্ড জে. ট্রাম্প তাঁর শান্তি ও সম্প্রীতি সহযাত্রীর উত্তর কোরীয় প্রেসিডেন্ট কিম জং উনকে মহান নেতা আখ্যায়িত করতে যেমন তিনি কার্পণ্য করেননি। ঠিক তেমনি উত্তর কোরীয় প্রেসিডেন্ট কিম জং উনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট মি. ট্রাম্পকে সাহসী অভিধা দিতেও দ্বিধা করেননি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস-ঐতিহ্য, রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে একটু তীক্ষè দৃষ্টিতে পর্যালোচনা করলেই দেখা যায়Ñ বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন কত নিরীহ ও শান্তিপ্রিয় এবং সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হতে চায়। তার প্রমাণ মাত্র ৮ মাসের ব্যবধানে দুইবার বিশেষত: প্রথমবার ১২ জুন ২০১৮ সিঙ্গাপুর ও দ্বিতীয়বার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ভিয়েতনামে সমঝোতা ও আলোচনায় বসতে রাজি হলেন। কারণ আজকের বিশ^ায়নে শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টই নয়, পৃথিবীর যে কোনো রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানই এ ধরনের শান্তি-সম্প্রীতির উদ্যোগ নিতে রাজি হবেন। শান্তি ও সম্প্রীতির বিশ^ায়ন দেখতে চাইলে আলোচনা-সমালোচনা পারস্পারিক দেখা-সাক্ষাতের কোনো বিকল্প নেই। একদিকে ভিয়েত নামের রাজধানী হ্যানয়ে বিগত বুধবার সন্ধ্যায় একান্ত এ বৈঠকে মি. ট্রাম্প বলেনÑ কোনো তাড়াহুড়া নেই, আমরা সঠিক চুক্তি করতে চাই। অন্যদিকে ঐ মার্কিন প্রেসিডেন্টের সহযাত্রী মহান নেতা মি. উনও বলেনÑ তিনি আশা করছেন একটি ভালো ফলাফল আসবে দুই দেশের পক্ষ থেকেই। যাই হোক পৃথিবীর সকল শান্তিবাদী দেশ, জাতি ও রাষ্ট্রপ্রধানগণই প্রত্যাশা করেন, পারমাণবিক বিষয়ক কর্মকান্ড এমনকি ধ্বংস লীলায় ভরপুর আরেকটি ইরাক-আফগান-ইয়ামেন দেখতে না হয়।এক কথায় পৃথিবীর কোনো অঞ্চলেই যুদ্ধাবস্থা বিরাজমান থাকুক এ ধরনের বিশ^ায়ন কেউ দেখতে চাই না। তা নাহলে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পৃথিবীর বিভিন্ন যুদ্ধাঞ্চল থেকে কেন সৈন্য প্রত্যাহার করছেন? উল্লেখ্য যে, ভিয়েতনামের হ্যানয়ে দ্বি-পাক্ষিক আলোচনা শেষ হওয়ার পর বিগত শুক্রবার ১ মার্চ ২০১৯ এক সংবাদ সম্মেলনে শান্তিবাদী দক্ষিণ কোরীয় প্রেসিডেন্ট মুন জা-ইন বলেনÑ আমি বিশ^াস করি ভিয়েতনামের ঐ বৈঠক উচ্চপর্যায়ের চুক্তিতে পৌঁছাতে একটি প্রক্রিয়ার অংশ। এখন আমাদের ভূমিকা আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আমার প্রশাসন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়াকে সহযোগিতা করবে। যাতে তাদের আলোচনা যে কোনো উপায়ে সম্পূর্ণ নিষ্পত্তিতে পৌঁছাতে পারে। অধিকন্ত বিগত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তে ভিয়েতনামে সম্মেলন শুরু হওয়ার আগে দক্ষিণ কোরীয় প্রেসিডেন্ট মুন জা-ইন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্পের সাথে ২৫ মিনিটের টেলিফোন আলাপেও ইতিবাচক ফলাফলে প্রত্যাশা ছিল।
এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ২০১৯ সালের ‘স্টেট অব ইউনিয়ন’ ভাষণেও বলেনÑ একুশ শতকের নতুন ধারার জীবন ব্যবস্থায় আমরা অবশ্যই গড়ে তুলব বলে অঙ্গিকারও দিয়েছেন। যদি তিনি তার পূর্বসূরীদের মতো অঙ্গিকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে এগিয়ে যায় তাহলে হয়তো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস শান্তি ও সম্প্রীতির পালকে যুক্ত হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট শান্তি ও গণতন্ত্রের মূর্তপ্রতীক জিমি কার্টার যখন কোরীয় উপদ্বীপে ১৯৯৪ সালে বর্তমান উত্তর কোরীয় প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের দাদা কিম জং ইল সিনিয়রের সাথে নতুনভাবে শান্তি ও সম্প্রীতির যোগাযোগ স্থাপন করেন। যার ফলশ্রুতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মাঝে পারমাণবিক অস্ত্র সংক্রান্ত চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল উইলিয়াম জেফারসন বিল ক্লিনটন প্রশাসনের আমলে।
যাই হোক, শান্তি সম্প্রীতির বিশ^ায়নে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নেতৃত্বের অগ্রগামীতা অবিচল রাখা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানকে সমোন্নত রাখতে পারেন কি না? সেটা সময়ই বলবে। তবে আমরা আশাবাদী যে, কোরীয় উপদ্বীপ অঞ্চলে ¯œায়ুযুদ্ধের অবসান না ঘটলেও বর্তমান অবস্থার চেয়ে কিছুটা হলেও প্রশমন অবশ্যই ঘটবে।

LEAVE A REPLY