মুসলিম সভ্যতার নিদর্শন ক্লক টাওয়ার

0
81

তারা নিউজ ডেস্ক:

ওসমানি শাসকদের কীর্তি-ফিরিস্তি বেশ সমৃদ্ধ। বলকান অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত তারা বহু শিল্প-স্থাপত্য তৈরি করেছে। কয়েকজন ওসমানি শাসকের অনন্য স্থাপত্য-কীর্তির স্বাক্ষর হয়ে আছে তাদের নির্মিত ক্লক টাওয়ারগুলো। শহরের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য সেগুলো নির্মাণ করা হলেও তা বর্তমানে মুসলিম স্থাপত্যশৈলির নিদর্শন হয়ে ওঠেছে।

এছাড়াও ২০১১ সালে উদ্ভোধনকৃ পবিত্র কাবাঘরের পার্শ্বে নির্মিত মক্কা রয়েল ক্লক টাওয়ারের স্থাপত্য-সৌন্দর্যের খ্যাতি বিশ্বময়। এ টাওয়ারের শীর্ষে গড়ে তোলা হয়েছে ১৩০ ফুট আকারের রাজকীয় ঘড়ি। ৩০ কিলোমিটার দূর থেকেও অনায়াসে ঘড়িটি দেখে সময় নির্ণয় করা যায়।

জানা গেছে, মুসলিমস্থাপত্যের ‘ক্লক টাওয়ার’ নির্মাণের ধারা শুরু হয় ১৫৭৭ সালে। আনাতোলিয়া (তুরস্কের এশিয়ান অংশ) থেকে দামেস্ক পর্যন্ত ওসমানিরা মোট ৬৩টি ক্লক টাওয়ার স্থাপন করেছিল। তবে সুলতান আবদুল হামিদ দ্বিতীয় সিংহাসনে আরোহণের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে সর্বাধিক ক্লক টাওয়ার নির্মাণ করেছিলেন। বর্তমানে অধিকাংশ ক্লক টাওয়ারগুলো পরিত্যক্ত। প্রাকৃতিক দুর্যোগে কিছু আবার ক্ষতিগ্রস্তও হয়েছে। কয়েকটি ক্লক টাওয়ারের সংক্ষিপ্ত আলোচনা।

বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ঘড়ি ‘মক্কা রয়েল ক্লক টাওয়ার’। সময় নির্ধারণী গ্রিনিচ মান ঘড়ি আগে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ঘড়ি ছিল। ‘মক্কা রয়েল ক্লক টাওয়ার’ এর কারণে গ্রিনিচ মানের দিন গুরুত্ব অনেকটা কমে এসেছে।

পবিত্র কাবা শরিফের কিং আবদুল আজিজ বা উম্মে হানি গেটের সম্মুখে ৭টি বিশাল টাওয়ারের কমপ্লেক্সের মাঝে ‘মক্কা রয়েল ক্লক টাওয়ার’ তৈরি করা হয়েছে। বিশ্বের সর্ববৃহৎ ঘড়ি ‘মক্কা ঘড়ি’ এ টাওয়ারের ওপরই বসানো হয়েছে।

তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলের ঘড়িটি আয়তনের দিক দিয়ে এতদিন বিশ্বের বৃহত্তম ঘড়ি ছিল। যেটির ডায়াল ছিল ৩৬ মিটার। কিন্তু মক্কা ঘড়ির ডায়াল ৪৩ মিটার। লন্ডনের বিগবেনের চেয়ে মক্কা ঘড়ির ডায়াল ৬ গুণ বড়।

টাওয়ারটি মোট ৯৫ তলা। সাত তারকা হোটেলসহ বৃহৎ শপিং মল রয়েছে এই টাওয়ারে। টাওয়ারের উচ্চতা ৬০১ মিটার।

৩০০ কোটি মার্কিন ডলারে নির্মিত চতুর্মুখী ঘড়িটিতে ৯ কোটি ৮০ লাখ পিস গ্লাস মোজাইক স্থাপন করা হয়ছে। চারদিকে আরবিতে লেখা আছে ‘আল্লাহু আকবর’। ২১ হাজার রঙিন বিজলি বাতির আলোয় তা উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে। রাতে ও দিনে ৩০ কিলোমিটার দূর থেকেও স্পষ্ট পড়া যায়। আল্লাহর নামের উপরের দিকে সোনা দিয়ে মোড়ানো ৭৫ ফুট ডায়ামিটারের একটি বাঁকা চাঁদ ৫৯০ মিটার উচ্চতায় স্থাপন করা হয়েছে।

বিভিন্ন উপলক্ষে এ চাঁদ থেকে ১৬টি উজ্জ্বল আলোক রশ্মি আকাশে বিচ্ছুরিত হয়। ১০ কিলোমিটার আকাশ জুড়ে আলো ছড়িয়ে পড়ে। সারারাত প্রায় ২০ লাখ LED বাতি আল্লাহর নাম সমুজ্জ্বল করে রাখে। ২০০৪ সালে এটির নির্মাণ কাজ আরম্ভ হয় এবং ২০১০ সালের ১১ আগস্ট পবিত্র রমজান মাসের প্রথম দিনে মক্কা ঘড়ি তিন মাসের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়। ২০১১ সালে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে মুক্ত করা হয়।

তুরস্কের প্রাচীন শহর ও পুরনো রাজধানী ইস্তানবুলে তিনটি ক্লক টাওয়ার রয়েছে। সবচেয়ে বিখ্যাত হলো ‘ইলদিজ ক্লক টাওয়ার’। ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে সুলতান আবদুল হামিদের নির্দেশে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দে শেষ হয়। ২৭ ফুট উচ্চতার টাওয়ারটির একপাশে ভূমধ্য সাগর রয়েছে। টাওয়ারের চতুর্থ তলায় ঘড়িটি স্থাপন করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY