যুক্তরাষ্ট্রে থামছে মৃত্যুর মিছিল, আক্রান্ত ৭ লাখ ছাড়াল

0
20
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীনের উহান থেকে গত ডিসেম্বরে প্রথম করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব হয়। তারপর তিন মাস পার হয়েছে। কিন্তু নিয়ন্ত্রণের কোনও লক্ষণ দৃশ্যমান নয় এখনও। ইতিমধ্যে করোনায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সারাবিশ্ব। এর মধ্যে সবচেয়ে বিধ্বস্ত অবস্থা যুক্তরাষ্ট্রে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে দেশটি। দিনদিন অবস্থা আরও অবনতি হচ্ছে। ক্রমাগত বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। দেশটিতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ১৭৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ২ হাজার ৫৩৫ জন। এর মধ্যে শুধু নিউইয়র্কে মারা গেছে ১৭ হাজার ১৩১ জন।

এদিকে আক্রান্তের সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়িয়ে গেছে সবাইকে। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৭ লাখ ১০ হাজার ২৭২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে ৩২ হাজার ১৬৫ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ৬৩ হাজার ৫১০ জন।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ৬ লাখ ৯ হাজার ৫৮৭ জন শনাক্ত রোগী রয়েছে। তাদের মধ্যে ৫ লাখ ৯৬ হাজার ৭৮ জন চিকিৎসাধীন, যাদের অবস্থা স্থিতিশীল। বাকি ১৩ হাজার ৫০৯ জনের অবস্থা গুরুতর, যাদের অধিকাংশই আইসিউতে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা নিউইয়র্কে। সেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ২৫ জনসহ এ পর্যন্ত মারা গেছে ১৭ হাজার ১৩১ জন। এবং গত ২৪ ঘণ্টায় ৭ হাজার ৭৫৩ জনসহ আক্রান্ত হয়েছে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৯৫১ জন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের করোনা ভাইরাস টাস্কফোর্সের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ও আমেরিকার শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অ্যান্টনি ফসি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, করোনা ভাইরাসে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুর সংখ্যা ৬০ হাজারের মতো দাঁড়াবে বলে মনে করছেন তারা। গত মার্চে অবশ্য এক থেকে দুই লাখ মানুষ মারা যেতে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানায় হোয়াইট হাউস।

উল্লেখ্য, চীনের উহান থেকে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব হয়। তারপর তিন মাস পার হয়েছে। কিন্তু এখনও নিয়ন্ত্রণের লক্ষণ দৃশ্যমান নয়। ইতিমধ্যে করোনায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সারাবিশ্ব। শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে ৮ হাজার ৬৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৩৯২ জন।

এছাড়া বিশ্বজুড়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২২ লাখ ৫৯ হাজার ৪৬ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৪১ জন।

সবমিলিয়ে, বর্তমানে ১৫ লাখ ২৮ হাজার ৬১৩ জন শনাক্ত রোগী রয়েছে। তাদের মধ্যে ১৪ লাখ ৭১ হাজার ৪৭৭ জন চিকিৎসাধীন, যাদের অবস্থা স্থিতিশীল। আর ৫৭ হাজার ১৩৬ জনের অবস্থা গুরুতর, যাদের অধিকাংশই আইসিউতে রয়েছে।

ভাইরাসটি চীন থেকে ছড়ালেও বর্তমানে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে মোট আক্রান্ত ৭ লাখ ১০ হাজার ২৭২, মারা গেছে ৩৭ হাজার ১৭৫ জন। এখন পর্যন্ত করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যু এবং আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রে।

এছাড়া স্পেনে আক্রান্ত ১ লাখ ৯০ হাজার ৮৩৯, মারা গেছে ২০ হাজার ২ জন। ইতালিতে আক্রান্ত ১ লাখ ৭২ হাজার ৪৩৪, মারা গেছে ২২ হাজার ৭৪৫ জন। ফ্রান্সে আক্রান্ত ১ লাখ ৪৭ হাজার ৯৬৯, মারা গেছে ১৮ হাজার ৬৮১ জন। জার্মানিতে আক্রান্ত ১ লাখ ৪১ হাজার ৩৯৭, মারা গেছে ৪ হাজার ৩৫২ জন। যুক্তরাজ্যে আক্রান্ত ১ লাখ ৮ হাজার ৬৯২, মারা গেছে ১৪ হাজার ৫৭৬ জন। চীনে আক্রান্ত ৮২ হাজার ৭১৯, মারা গেছে ৪ হাজার ৬৩২ জন। ইরানে আক্রান্ত ৭৯ হাজার ৪৯৪, মারা গেছে ৪ হাজার ৯৫৮ জন। তুরস্কে আক্রান্ত ৭৮ হাজার ৫৪৬, মারা গেছে ১ হাজার ৭৬৯ জন। বেলজিয়ামে আক্রান্ত ৩৬ হাজার ১৩৮, মারা গেছে ৫ হাজার ১৬৩ জন। ব্রাজিলে আক্রান্ত ৩৪ হাজার ২২১, মারা গেছে ২ হাজার ১৭১ জন। কানাডাতে আক্রান্ত ৩১ হাজার ৯২৭, মারা গেছে ১ হাজার ৩১০ জন। নেদারল্যান্ডসে আক্রান্ত ৩০ হাজার ৪৪৯, মারা গেছে ৩ হাজার ৪৫৯ জন। সুইজারল্যান্ডে আক্রান্ত ২৭ হাজার ৭৮, মারা গেছে ১ হাজার ৩২৭ জন। সুইডেনে আক্রান্ত ১৩ হাজার ২১৬, মারা গেছে ১ হাজার ৪০০ জন।

এছাড়া ভারতে মোট আক্রান্ত ১৪ হাজার ৪২৫, মারা গেছে ৪৮৮ জন। পাকিস্তানে আক্রান্ত ৭ হাজার ৪৮১, মারা গেছে ১৪৩ জন। বাংলাদেশে আক্রান্ত ১ হাজার ৮৩৮, মারা গেছে ৭৫ জন।

এ রোগের কোনো উপসর্গ যেমন জ্বর, গলা ব্যথা, শুকনো কাশি, শ্বাসকষ্ট, শ্বাসকষ্টের সঙ্গে কাশি, এর কারণে স্বাদ ও গন্ধের অনুভূতিও কাজ না করতে পারে তাই এগুলো দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। জনবহুল স্থানে চলাফেরার সময় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। বাড়িঘর পরিষ্কার রাখতে হবে। বাইরে থেকে ঘরে ফিরে এবং খাবার আগে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। খাবার ভালোভাবে সিদ্ধ করে খেতে হবে।

 

LEAVE A REPLY