সন্ধ্যা ৬টার পর ঘর থেকে বের না হওয়ার নির্দেশ সরকারের

0
22

তারা নিউজ ডেস্ক:

মহামারি করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে সন্ধ্যা ৬টার পর বাসাবাড়ির বাইরে বের হতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার।

শুক্রবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত এক আদেশে এই নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সরকারের এই নির্দেশ অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আদেশে আরও বলা হয়েছে, আগের ছুটির ধারাবাহিকতায় ১৫ ও ১৬ এপ্রিল এবং ১৯ থেকে ২৩ এপ্রিল সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলো। সাধারণ ছুটির সময় আগামী ১৭-১৮ এপ্রিল এবং ২৪-২৫ এপ্রিল সাপ্তাহিক ছুটি সংযুক্ত থাকবে। তবে এই ছুটি অন্যান্য সাধারণ ছুটির মতো বিবেচিত হবে না।

আদেশে ছুটিকালীন নির্দেশনাবলি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। নির্দেশনাবলির মধ্যে আছে-

১) করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রশমনে জনগণকে অবশ্যই ঘরে অবস্থান করতে হবে।
২) অতীব জরুরি প্রয়োজন ব্যতিত ঘরের বাইরে বের না হতে সবাইকে অনুরোধ করা হলো।
৩) সন্ধ্যা ৬টার পর কেউ ঘরের বাইরে বের হতে পারবেন না। এ নির্দেশ অমান্য কারলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
৪) এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় চলাচল কঠোরভাবে সীমিত করা হলো।
৫) বিভাগ, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মরত সকল কর্মকর্তাকে দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করতে হবে।

আদেশে বলা হয়েছে, জরুরি পরিসেবার (বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট ইত্যাদি) ক্ষেত্রে এ নির্দেশনাবলি প্রযোজ্য হবে না।

এছাড়াও কৃষিপণ্য, সার, কীটনাশক, জ্বালানি, সংবাদপত্র, খাদ্য, শিল্পপণ্য, চিকিৎসা সরঞ্জামাদি, জরুরি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন এবং কাঁচাবাজার, খাবার, ওষুদের দোকান ও হাসপাতাল এ সাধারণ ছুটির মধ্যে পড়বে না। এমনকি জরুরি প্রয়োজনে অফিস খোলা রাখা যাবে। প্রয়োজনে চালু রাখা যাবে ওষুধশিল্প, উৎপাদন ও রফতানিমুখি শিল্পকারখানা। এছাড়া ছুটিকালীন মানুষের প্রয়োজন বিবেচনায় সীমিত আকারে ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু রাখার নির্দেশ দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস সনাক্ত হওয়ার পর ১৮ মার্চ প্রথম এ ভাইরাসে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এরপর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। আগের দিনগুলোর তুলনায় গত তিন-চার দিনে আক্রান্তের হার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বেড়েছে মৃত্যুর হারও। বর্তমানে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪২৪ জন। তাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ জনের। তবে এই কদিনে আক্রান্তদের মধ্যে কেউ সুস্থ হননি।

LEAVE A REPLY