সরকারের বড় চ্যালেন্স সামনে, অর্থনৈতিক মন্দা কেটে উঠা, করোনা ও বন্যা

0
6

তারা নিউজ ডেস্ক: খন্দকার মাসুদ-উজ-জামান

বানের ঢলে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা ডুবে আছে। গ্রাম থেকে শহর, কোনো জায়গাই বাদ যাচ্ছে না। বিপন্ন মানুষ উঠে আসছে ঘরের চালে, ভাসছে ভেলা বা নৌকায়, উঠে যাচ্ছে বাঁধে ও উঁচু জমিতে। মানুষের তবু যাওয়ার জায়গা আছে, কিন্তু অবলা প্রাণীদের সেটাও নেই।

কোভিড–১৯ মহামারি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে এ দেশের জনস্বাস্থ্যব্যবস্থার কী শোচনীয় দুর্দশা। সংক্রমণ রোধে ব্যর্থতা এবং কোভিড–১৯ রোগীসহ সাধারণ চিকিৎসাব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়া সাধারণ চোখেই দৃশ্যমান। মহামারি মোকাবিলার জন্য বরাদ্দ অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতিও আর গোপনীয় বিষয় নয়। তবে যা জানা ছিল না, তা হলো মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা।

কোভিড–১৯–এ আক্রান্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা ও চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে যেসব প্রতারণামূলক তৎপরতার খবর কিছুদিন ধরে প্রকাশ পাচ্ছে, সেগুলো আমাদের স্তম্ভিত করে। কেননা, মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের পক্ষে গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টিকারী সেসব প্রতারণামূলক তৎপরতা গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। যাঁরা এসব অপরাধে লিপ্ত থেকেছেন, তাঁরা কোভিড–১৯ রোগী শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা প্রদানের অনুমোদন পেয়েছেন সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেই।

শ্রমিক-কর্মচারীদের মজুরি দিতে আবারও সরকারের প্রণোদনার তহবিল থেকে ঋণ পাচ্ছেন রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকেরা। ফলে এপ্রিল, মে ও জুনের পর চলতি জুলাই মাসের মজুরি নিয়ে দুশ্চিন্তা রইল না তাঁদের। যদিও জুলাইসহ আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের মজুরি দিতে অর্থ চেয়েছিল পোশাকশিল্পের মালিকদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ।

বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল বৃহস্পতিবার ৪৭টি ব্যাংকের কাছে এ–সংক্রান্ত চিঠি দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, শেষবারের মতো চলতি জুলাই মাসের মজুরি দিতে তহবিল থেকে ঋণ পাবেন রপ্তানিকারকেরা। গত জুনে যেসব উদ্যোক্তা ঋণ পেয়েছিলেন, তার বাইরে কেউ নতুন কেউ পাবেন না। ওই ঋণের বিপরীতে প্রথম তিন মাসের সার্ভিস চার্জ ২ শতাংশ। চলতি মাসের ক্ষেত্রে অবশ্য সেটি হবে সাড়ে ৪ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে সরকার সাড়ে ৪ শতাংশ ভর্তুকি দেবে। পোশাকশিল্পের মালিকদের এই সুবিধা দেওয়ার জন্য করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানের চলতি মূলধন বাবদ ঋণ দিতে ঘোষিত ৩০ হাজার কোটি টাকার তহবিল বাড়িয়ে ৩৩ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY