করোনা চেনাল ভয়ঙ্কর চালচোর ভাইরাসকে

0
26

মো. রুহুল আমীন

চলমান বৈশ্বিক দুর্যোগের মধ্যেও দেশে থেমে নেই চাল চুরির ঘটনা। প্রতিদিন সামাজিক যোগাযোগ, পত্রিকা ও টিভি খুললেই ত্রাণের চাল চুরির খবর প্রকাশ পাচ্ছে। করোনার মতই সারাদেশে যেন চাল চুরির হিড়িক পড়েছে।

লকডাউনে বিপাকে পড়া হতদরিদ্র মানুষের জন্য সরকার সারাদেশে ত্রাণের চাল বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় কিছু অসাধু নেতার যোগসাজসে সেগুলো চুরি হচ্ছে। ফলে ক্ষুধার্ত অসহায় গরীব মানুষগুলো ত্রাণের আশায় সারাদিন রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থেকে সন্ধ্যায় খালি হাতে বাড়ি ফিরছে।

চাল চুরি ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশেও তা বন্ধ হচ্ছে না। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গত ১০দিনে সারাদেশে চরু হওয়া প্রায় সাড়ে ৩ হাজার বস্তা ত্রাণের চাল উদ্ধার করা হয়েছে। চাল চুরির দায়ে ইতোমধ্যে ডিলার ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের স্থানীয় অনেক নেতার জেল জরিমানারও খবর পাওয়া গেছে। আবার অনেকেই রয়েছেন পলাতক। তবুও থামছে না এদের দৌরাত্ম।

করোনায় প্রতিদিন দেশে বাড়ছে লাশ ও আক্রান্তের সংখ্যা। এমন সংকট মুহূর্তেও আমাদের চাল চোরদের চৌর্যবৃত্তি চলতেই আছে। মানুষ নামের এই কীট-পতঙ্গগুলোকে আর যাই হোক মানুষ বলা যায় না। এরা মানুষের ছদ্মবেশে গরীব অসহায় মানুষগুলোর সাথে নিষ্ঠুর খেলা খেলছে।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে এই কীট-পতঙ্গগুলো আবার তথাকথিত জনপ্রতিনিধি। এরাই হচ্ছে আমাদের নষ্ট রাজনীতির ফসল। যুগ যুগ ধরে এদের লালন পালন করা হচ্ছে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে। ক্ষমতার বলয়কে এরা নিরাপদ আশ্রয় বানিয়ে নিয়েছে। এদের দাপটে আজ সাধারণ জনগণ অসহায়। এদের দ্বারা হয় না এমন কোন ঘৃণ্য কাজ নেই। আম জনতা অন্তরে এদের ঘৃণা করলেও মুখ ফুটে কিছু বলতে পারে না বা বলার সাহস পায় না। কারণ এদের রয়েছে বিশাল ক্ষমতা।

রাজনৈতিক দলগুলোর কাছেও রয়েছে এদের ব্যাপক চাহিদা। এদের ছাড়া কোন রাজনৈতিক কর্ম, মিছিল মিটিং হয় না। প্রতিপক্ষ দমনে এরা মাস্তান যোগান দেয়। মসজিদ থেকে শুরু করে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পরিষদও এরা দখল করে আছে।

গণমাধ্যমে চাল চুরের যে খবরগুলো প্রকাশ পাচ্ছে তা সারা দেশের একটা চিত্র মাত্র। এধরনের অনেক ঘটনাই অপ্রকাশিত থেকে যাচ্ছে কিংবা ধামাচাপা দেয়া হচ্ছে। চাল চোরেরা কি পরিমান লুটে পুটে খাচ্ছে তা একমাত্র বিধাতাই জানেন। করোনা আমাদেরকে চালচোরদের মত মারাত্মক ভাইরাস গুলো চেনার সুযোগ করে দিয়েছে। করোনা এদেশে তার মতই একজন সাথী খুঁজে পেয়েছে।

সময় এসেছে এদের চিহ্নিত করার এবং কঠোর হস্তে দমনের। এসব চালচোরদের সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আকুল আবেদন জানাচ্ছি। এই ধরনের কঠোর শাস্তি প্রতিষ্ঠিত হলে কেউ এপথে আর পা বাড়ানোর সাহস পাবে না। একইসাথে দেশের জনগণের প্রতি আমার আহ্বান থাকবে-এসব নষ্ট কীটদের সামাজিকভাবে বয়কট করার জন্য।

লেখক: বিশিষ্ট সাংবাদিক

LEAVE A REPLY